Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

DUSU Election: প্রশ্নফাঁস অতীত! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের গেরুয়া ঝড়, এবিভিপির দাপটে ধুলিস্যাৎ কংগ্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
DUSU Election: প্রশ্নফাঁস অতীত!  দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের গেরুয়া ঝড়, এবিভিপির দাপটে ধুলিস্যাৎ কংগ্রেস
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া ঝড়। ছবি: এক্স

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের জেরে তোলপাড়, একাধিক নিট (NEET) বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোর দাবি এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র সাম্প্রতিক আন্দোলনের চরম আবহেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অক্ষুণ্ণ রইল গেরুয়া শিবিরের দাপট। 

সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ ভেস্তে দিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। কেন্দ্রীয় প্যানেলের ৪টি মূল পদের মধ্যে ৩টিতেই বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এবিভিপির ঝুলিতে গিয়েছে সভাপতি, সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদকের পদ। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) এবারেও তাদের দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে, উপরন্তু তাদের হাতছাড়া হয়েছে সহ-সভাপতি পদটিও, যা দখল করেছেন এক নির্দল প্রার্থী।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে নর্থ ক্যাম্পাসের ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস স্টেডিয়ামের মাল্টিপারপাস হলে শুরু হয় ভোটগণনা। শুক্রবার মোট ১.৫১ লক্ষ ছাত্র-ভোটারের মধ্যে ৪০.৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল। লড়াইয়ে ছিল এবিভিপি, এনএসইউআই, বামপন্থীদের আইসা-এসএফআই (AISA-SFI) জোট এবং একাধিক নির্দল মিলিয়ে মোট ২০ জন প্রার্থী। কিন্তু গণনা শুরু হতেই দেখা যায়, বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে এবিভিপি।

সবচেয়ে হেভিওয়েট সভাপতি পদের নির্বাচনে জোর টক্কর হলেও শেষ পর্যন্ত হাসলেন এবিভিপি-র যশ দাবাস। তিনি ২৪,৫৭৬ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনএসইউআই-এর বিজয় শঙ্কর মীনাকে (২২,৫২৩ ভোট) ২,০৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত করেন। অন্যদিকে, সম্পাদক পদে এবিভিপির রিয়া ছাওড়ি ২১,৬৫০ ভোট পেয়ে এনএসইউআইয়ের নম্রতা চৌধুরীকে ৬ হাজারের বেশি ভোটের বিশাল ফারাকে হারিয়ে জয়ী হন। আর যুগ্ম সম্পাদক পদে ১৬,৬১৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবিভিপির লক্ষ্য রাজ সিংহ।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে সহ-সভাপতি পদে। এই পদটিতে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও নির্দল প্রার্থী প্রধান চারটি পদের একটিতে জয় ছিনিয়ে নিলেন। উল্লেখ্য, দীপাংশু আগে এনএসইউআই-এর সদস্য ছিলেন, কিন্তু টিকিট না পেয়ে নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়ান। ফলে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং এই 'তৃতীয় পক্ষ'-র উদয়ই এনএসইউআই-এর জয়ের সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেয়।

একসময় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী গড় হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দেশের ছাত্র সমাজকে কাছে টানতে বিভিন্ন রাজ্যে ‘ছাত্রদের সঙ্গে কথা’ বা 'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে মূল হাতিয়ার করে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল বিরোধী শিবির। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রেস্টিজ ফাইটে হাত শিবিরের শূন্য হাতে ফেরা রাহুলের জাতীয় ছাত্র রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। সব বাধা কাটিয়ে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে ফের একবার উড়ল গেরুয়া নিশান।

বিষয় : HiddenStoriesNews #DUSUElectionResults #ABVP #NSUI #DelhiUniversity #DUSUElections #StudentPolitics #KolkataNews #HiddenStoriesNews #RahulGandhi #ABVPWins

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


DUSU Election: প্রশ্নফাঁস অতীত! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের গেরুয়া ঝড়, এবিভিপির দাপটে ধুলিস্যাৎ কংগ্রেস

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের জেরে তোলপাড়, একাধিক নিট (NEET) বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোর দাবি এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র সাম্প্রতিক আন্দোলনের চরম আবহেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অক্ষুণ্ণ রইল গেরুয়া শিবিরের দাপট। সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ ভেস্তে দিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। কেন্দ্রীয় প্যানেলের ৪টি মূল পদের মধ্যে ৩টিতেই বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এবিভিপির ঝুলিতে গিয়েছে সভাপতি, সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদকের পদ। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) এবারেও তাদের দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে, উপরন্তু তাদের হাতছাড়া হয়েছে সহ-সভাপতি পদটিও, যা দখল করেছেন এক নির্দল প্রার্থী।শনিবার সকাল ৮টা থেকে নর্থ ক্যাম্পাসের ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস স্টেডিয়ামের মাল্টিপারপাস হলে শুরু হয় ভোটগণনা। শুক্রবার মোট ১.৫১ লক্ষ ছাত্র-ভোটারের মধ্যে ৪০.৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল। লড়াইয়ে ছিল এবিভিপি, এনএসইউআই, বামপন্থীদের আইসা-এসএফআই (AISA-SFI) জোট এবং একাধিক নির্দল মিলিয়ে মোট ২০ জন প্রার্থী। কিন্তু গণনা শুরু হতেই দেখা যায়, বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে এবিভিপি।সবচেয়ে হেভিওয়েট সভাপতি পদের নির্বাচনে জোর টক্কর হলেও শেষ পর্যন্ত হাসলেন এবিভিপি-র যশ দাবাস। তিনি ২৪,৫৭৬ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনএসইউআই-এর বিজয় শঙ্কর মীনাকে (২২,৫২৩ ভোট) ২,০৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত করেন। অন্যদিকে, সম্পাদক পদে এবিভিপির রিয়া ছাওড়ি ২১,৬৫০ ভোট পেয়ে এনএসইউআইয়ের নম্রতা চৌধুরীকে ৬ হাজারের বেশি ভোটের বিশাল ফারাকে হারিয়ে জয়ী হন। আর যুগ্ম সম্পাদক পদে ১৬,৬১৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবিভিপির লক্ষ্য রাজ সিংহ।এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে সহ-সভাপতি পদে। এই পদটিতে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও নির্দল প্রার্থী প্রধান চারটি পদের একটিতে জয় ছিনিয়ে নিলেন। উল্লেখ্য, দীপাংশু আগে এনএসইউআই-এর সদস্য ছিলেন, কিন্তু টিকিট না পেয়ে নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়ান। ফলে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং এই 'তৃতীয় পক্ষ'-র উদয়ই এনএসইউআই-এর জয়ের সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেয়।একসময় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী গড় হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দেশের ছাত্র সমাজকে কাছে টানতে বিভিন্ন রাজ্যে ‘ছাত্রদের সঙ্গে কথা’ বা 'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে মূল হাতিয়ার করে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল বিরোধী শিবির। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রেস্টিজ ফাইটে হাত শিবিরের শূন্য হাতে ফেরা রাহুলের জাতীয় ছাত্র রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। সব বাধা কাটিয়ে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে ফের একবার উড়ল গেরুয়া নিশান।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত