শিলিগুড়ি: আধুনিকতার চাকচিক্য আর চটকময়তার ভিড়ে এবার আবহমান বাংলার শিকড়ে ফেরার বার্তা দিচ্ছে শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব। প্লাস্টিক বা কৃত্রিম সামগ্রীর দাপট সরিয়ে মাটির সোঁদা গন্ধ আর মৃৎশিল্পীদের ঘামঝরা শ্রমকে কুর্নিশ জানিয়ে সেজে উঠছে তাদের ৫৭তম বর্ষের শারদোৎসব। উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা এই পুজোয় এবার মূল ভাবনা, বাংলার চিরাচরিত মাটির শিল্পকলা ও পোড়ামাটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
মণ্ডপসজ্জার মূল আকর্ষণ দুটি বিশালাকার মাটির পাত্র। মৃৎশিল্পীদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম ও ব্যস্ততার ছবি সুনিপুণ অলংকরণে এঁকে তোলা হয়েছে সেই বিশালাকৃতির পাত্রদুটিতে। কাঁধে বাঁক ঝুলিয়ে মৃৎসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য থেকে শুরু করে চাকা ঘোরানোর পরিচিত ছবি, মাটির গায়ে খোদাই করা রয়েছে কারিগরদের জীবনের নানা গল্প। থিম শিল্পী অচিন্ত্য দাস জানান, বাঁকুড়ার বিশ্বখ্যাত টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্পই তাঁদের অনুপ্রেরণা। যে শিল্পীরা দিনের পর দিন নিভৃতে বাংলার রূপদান করেন, তাঁদের অবদানকে সম্মান জানাতেই গত তিন মাস ধরে এই অক্লান্ত প্রয়াস।
গোটা মণ্ডপ সেজে উঠছে মাটির তৈরি হাঁড়ি, কলসি, রান্নার থালা-বাসন, প্রদীপ, পুতুল এবং ঐতিহ্যবাহী বাঁকুড়ার ঘোড়ায়। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নিমাই পাল জানিয়েছেন, মণ্ডপের ভেতরের পরিসরে ঠাঁই পাচ্ছে মোট ২২টি বিশালাকার পোড়ামাটির বিশেষ মডেল। তবে মণ্ডপসজ্জায় আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও দেবীর আবাহনে বজায় থাকছে সাবেকিয়ানা। চিরাচরিত একচালার প্রতিমাতেই বিরাজ করবেন মা দুর্গা ও তাঁর সন্তানরা।
ঐতিহ্য আর শিল্পচেতনার এই নিখুঁত মেলবন্ধন শিলিগুড়ির পুজো পরিক্রমায় এক অন্য মাত্রা যোগ করবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। মাটির সোঁদা গন্ধে ভরা এই শিল্পালয় এবারের পুজোয় দর্শনার্থীদের মন কাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন