নিউ ইয়র্ক: সিলিকন ভ্যালির কাঁচ ঢাকা ঝাঁ-চকচকে কর্পোরেট অন্দরমহল যেন হঠাৎই রূপ নিয়েছে হলিউডের কোনও স্পাই থ্রিলারের চিত্রনাট্যে। রঙিন মেজাজ, দামি শ্যাম্পেনের বোতল কিংবা পার্কে স্রেফ সৌজন্যমূলক আড্ডা, যে কোনও আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে বিদেশি গুপ্তচর!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) দুনিয়ার বিশ্বখ্যাত সংস্থা 'ওপেনএআই' (OpenAI) এখন নিজেদের কর্মীদের এই মারাত্মক আশঙ্কার কথাই স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে। বিশ্বজয়ের প্রযুক্তির সিক্রেট চুরি করতে পাতা হতে পারে রূপের ফাঁদ বা ‘হানি পট’ (Honey Pot)। আর এই আতঙ্কের মেঘ যে নিছক কল্পনা নয়, চলতি সপ্তাহেই তা সত্যি প্রমাণিত হলো সান ফ্রান্সিসকোয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই-এর পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিক ও গুগলের মতো প্রফেশনাল কর্মীদেরও এখন রীতিমতো প্রশিক্ষণ দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। পার্কে বা ক্যাফেতে আচমকা বন্ধু হতে চাওয়া অপরিচিত থেকে শুরু করে ট্রেনে ল্যাপটপ ব্যবহারের ঝুঁকি, প্রতি পদক্ষেপে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমনকি মিটিং শেষে হোয়াইটবোর্ড মুছে ফেলা কিংবা সংস্থার লোগো দেওয়া পোশাক প্রকাশ্যে না পরার কড়া আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা (SOP) মেনে চলতে বলা হচ্ছে। কূটনীতিকদের উপর অতীতের বিদেশি স্পাইদের হামলা ও চেষ্টার উদাহরণ টেনে বোঝানো হচ্ছে, গুপ্তচরদের টার্গেটে পড়লে তাদের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা আটকানো কতটা কঠিন।
আর এই সব সতর্কতা চলাকালীনই চলতি সপ্তাহে নাটকীয় মোড় নেয় বাস্তব পরিস্থিতি। সান ফ্রান্সিসকোয় ওপেনএআই-এর এক্সিকিউটিভ কনফারেন্স রুমে টিভির পেছনে এবং টয়লেট পেপারের আড়ালে গোপন অডিও রেকর্ডিং ডিভাইস বসানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আব্দুলরহমান আলফোজান নামে এক সৌদি নাগরিক ও প্রাক্তন সংস্থাকর্মীকে।
যদিও তাঁর আইনজীবীর দাবি, এই ঘটনা একেবারেই ভিত্তিহীন ও চরিত্রবিরোধী, তবুও তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল রেকর্ডিং আইন ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচ বছরের জেল ও বিপুল জরিমানার মামলা রুজু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
আসলে, এআই প্রযুক্তি এখন কেবল প্রযুক্তি বাজারের লড়াই নয়; বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি। শিগগিরই আইপিও-তে ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁয়ার দৌড়ে থাকা এই সংস্থাগুলির তথ্য হাতিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক গুপ্তচর চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের কথায়, এআই-এর তথ্য রক্ষা করা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যেই বিশিষ্ট এআই গবেষক ও হুইসেলব্লোয়ার জেকব কক্সনের বিস্ফোরক মন্তব্য, "৯০ শতাংশ নিশ্চিত যে বড় এআই ল্যাবগুলোতে ইতিমধ্যেই গুপ্তচর সেঁধিয়ে গেছে।" এই বাস্তবতাই এখন ঘুম উড়িয়েছে ভ্যালি অফ টেকনোলজির।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন