সোনারপুর: আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দিনদুপুরে বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর মাশুল দিতে হলো প্রাণ দিয়ে! স্থানীয় অধিবাসীদের হাতে বেধড়ক গণপিটুনিতে মৃত্যু হলো এক যুবকের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার অন্তর্গত রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাবাদ ফুলের হাটের আম্বেদকরনগর এলাকায়। মৃত যুবকের নাম গোপাল হালদার। খবর পেয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে কয়েক বছর আগের এক পুরনো খুনের মামলার প্রতিশোধের সম্ভাবনা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপাল হালদারসহ মোট তিনজন দুষ্কৃতী আম্বেদকর নগরের এক বাসিন্দার বাড়িতে হঠাৎ চড়াও হয়। অভিযোগ, তাঁদের হাতে ছিল মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র। ঘরে ঢুকে গৃহস্থকে ভয় দেখিয়ে হামলা চালাতেই পরিবারের সদস্যরা ভয়ে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু করেন। সেই চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দলে দলে ছুটে এলে বেগতিক বুঝে গোপালের দুই সঙ্গী চম্পট দেয়। তবে পালাতে গিয়েও স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে আটকে পড়ে যায় গোপাল। এরপরই ক্ষিপ্ত জনতা তাকে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ। গণপিটুনির জেরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। পুলিশ উদ্ধার করে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে কেন এই হঠাৎ হামলা? হামলার নেপথ্যে বেরিয়ে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে বাড়িতে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয়েছিল, সেই বাড়ির মালিক জানান, কয়েক বছর আগে তাঁর ছেলে লাল্টু হাজরাকে গুলি করে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্তদের একজন ছিল এই গোপাল হালদার। তৎকালীন সময়ে সোনারপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে গোপাল কেন ফের এতদিন পর সেই পুরনো শত্রুর বাড়িতে অস্ত্রসহ চড়াও হলো, তা নিয়ে তীব্র রহস্য দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পর গোপালের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরনো খুনের প্রতিশোধ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড়সড় অপরাধমূলক চক্র কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখতে সবদিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা থাকলেও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন