নয়াদিল্লি: রাজধানীর রাস্তায় রাত ১০টায় হেঁটে যান বা মেট্রোতে চেপে বাড়ি ফিরুন! প্রতিটি নারী যাতে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বোধ করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকেই। শুধুই খাতায়-কলমে নির্দেশিকা জারি করে দায় এড়ানো যাবে না, কাজ করতে হবে একদম মাটি আঁকড়ে।
দিল্লিতে পর পর নারী নির্যাতনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় সোমবার দিল্লি পুলিশকে কার্যত তুলোধোনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের চরম বার্তা, অসামাজিক ও দুষ্কৃতীদের মনে অপরাধ করার আগে এমন আতঙ্ক তৈরি করতে হবে, যাতে তারা বোঝে "এবার কিছু করলেই সোজা মৃত্যু!"
সম্প্রতি রাজধানী ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকায় একের পর এক নারকীয় ঘটনা সামনে এসেছে। স্লিপার বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণ থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিল্লির একটি পার্ক, যা আবার একটি মেয়েদের কলেজের থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে, সেখানেও ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটেছে। আদালতের স্পষ্ট প্রশ্ন, ওই এলাকার বাসিন্দারা পুলিশকে অপরাধীদের সম্পর্কে আগে থেকে সাবধান করা সত্ত্বেও কেন আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হল না? কেবল নিস্ক্রিয়ভাবে পাহারা দেওয়া বা মোড়ে মোড়ে পিসিআর ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখা যে বাস্তবে অপরাধ ঠেকাতে পারছে না, তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, নির্দিষ্ট পয়েন্টে ভ্যান দাঁড় করিয়ে না রেখে নিরবচ্ছিন্ন পিসিআর টহল বা 'বিট পেট্রোলিং' চালু করতে হবে। শহরের যে সব গলি বা রাস্তায় আলো নেই, অবিলম্বে সেগুলি চিহ্নিত করে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ আর একটি কেন্দ্রীয় 'ওয়ার রুম' ছাড়া এর যে কোনও মূল্য নেই, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্ধকার গলি বা অসামাজিকদের আড্ডার কথা জেনে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আদালতের নজরে এসেছে দিল্লির অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা হাজার হাজার বেআইনি খাবারের দোকান ও ঠেক। সেখানে প্রকাশ্যেই অসামাজিক উপাদানদের জমায়েত হয় এবং মদ খাওয়া চলে। বিচারপতির নির্দেশ, অপরাধ রুখতে পুলিশকে প্রথম নিশানা করতে হবে এই সমস্ত অননুমোদিত দোকান এবং কলেজ প্রাঙ্গণগুলিকে। যেখানে মেয়েদের উত্যক্ত করা বা 'ইভ টিজিং' নিত্যদিনের ঘটনা। সামনেই দুর্গাপূজা ও দীপাবলির মতো উৎসবের মরশুম, এই সময়ে অসামাজিকদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়ে। তাই এখন থেকেই দিল্লি পুলিশকে চরম সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কড়া পুলিশি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তথাকথিত 'মানবাধিকার' বা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের দোহাই না দেওয়ার বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট বলা হয়েছে, মেয়েদের নিরাপত্তার খাতিরে কঠোর হতে পুলিশ যেন দ্বিধা না করে। দুষ্কৃতীদের ট্র্যাক করতে প্রস্তুত করতে হবে জাতীয় যৌন অপরাধীদের ডাটাবেস। আদালতের স্পষ্ট কথা, পুলিশের নজরদারি ও কড়া পদক্ষেপই পারবে এই প্রবণতা রুখতে, আর কাগজ-কলমে আটকে থাকা কোনো প্রশাসনিক বয়ান নয়।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন