কৌশিকী অমাবস্যা মানেই তারাপীঠে বিশেষ আবহ। ভক্তদের বিশ্বাস, এই তিথিতেই তারাপীঠে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। তাই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। এই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত-পুণ্যার্থীরা এখানে ভিড় করেন। কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে তারাপীঠে নানা আচার-অনুষ্ঠান করা হয়। পাশাপাশি মা তারার ভোগেও থাকে বিশেষ আয়োজন। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে বদলে যায় নিবেদনের সামগ্রী।
২০২৬ সালে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যা পালিত হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ওই দিন সকাল থেকেই অমাবস্যা তিথি শুরু হবে এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত চলবে। তাই ১০ সেপ্টেম্বর রাতেই এই বিশেষ তিথির মূল ধর্মীয় আচার ও সাধনা সম্পন্ন হবে।
দুপুরের অন্নভোগে কী থাকে?
কৌশিকী অমাবস্যার দুপুরে মা তারাকে নিবেদন করা হয় বিশেষ অন্নভোগ। সেই রান্নার প্রস্তুতিও অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। ভোগের তালিকায় থাকে পোলাও, মাছ ভাজা, পটল ভাজা, আলু ভাজা-সহ বিভিন্ন রকমের ভাজা। এর সঙ্গে থাকে শোল মাছ পোড়া এবং আরও বেশ কিছু পদ। এই বিশেষ ভোগকে ঘিরে মন্দিরে থাকে আলাদা ব্যস্ততা।
সন্ধে থেকে মধ্যরাত, বদলে যায় ভোগের আয়োজন
সন্ধ্যার নিবেদনে থাকে সুজি, লুচি-সহ বিভিন্ন উপকরণ। এরপর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসে আরও বিশেষ আয়োজন। সাধারণত রাত ১২টা নাগাদ মা তারাকে ফুলে সাজানো হয়। সেই সময় নিবেদন করা হয় খিচুড়ি এবং অন্যান্য ভোগের পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংসও। কৌশিকী অমাবস্যার এই বিশেষ রাতকে ঘিরে তারাপীঠে ভক্তদের ভিড়ও থাকে চোখে পড়ার মতো।
কৌশিকী অমাবস্যার সঙ্গে তারাপীঠের সম্পর্ক শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়। বামাক্ষ্যাপার সাধনা ও সিদ্ধিলাভের কাহিনির সঙ্গে এই তিথির যোগ থাকায় ভক্তদের কাছে দিনটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কঙ্কালীতলা, মুণ্ডমালিনীতলার মতো সাধনক্ষেত্রগুলিও এই সময়ে বিশেষ গুরুত্ব পায় বলে বিশ্বাস।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন