গুয়াহাটি: “ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, মা!”
গভীর রাতে ফোনে মায়ের কাছে তরুণীর এই আকুল আর্তনাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলল তাঁর নিথর দেহ। বিজেপি শাসিত অসমের গুয়াহাটিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর এই রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার জেরে অভিযোগের তিলক উঠেছে কথিত ‘লভ জেহাদ’-এর দিকে। গড়ল এলাকার এক হোমস্টে থেকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সি সমাজতত্ত্বের ছাত্রী নিমিশা ঠাকুরিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আসিফ আলি নামে তাঁর এক পুরুষ বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধোরাপুরের বাসিন্দা নিমিশা শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ৮টা ও ১০টা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে তাঁর ফোনে স্বাভাবিক কথা হয়। কিন্তু রাত ২টো নাগাদ আচমকাই মায়ের ফোনে ফোন করে কেঁদে ভাসান ওই তরুণী।
পরিবার জানিয়েছে শেষ ফোনে নিমিশা জানিয়েছিল, “ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, মা!” এর পরই ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত পরিবার সঙ্গে সঙ্গে আজারা থানার শরণাপন্ন হয়।
ভোর রাতে গড়ল এলাকার ‘রুদ্রজ কিচেন’ নামে একটি হোমস্টের ঘরের মেঝে থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নিমিশাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আসিফ আলির দাবি, তরুণী সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ আসিফের এই বয়ান মানতে নারাজ। ঘটনাস্থল বা দেহে রক্তের দাগ না মিললেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলেই সন্দেহ করছে। হোমস্টের কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, রাতে ঘর থেকে এক পুরুষের আর্ত চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছিল।
মৃত তরুণী হিন্দু এবং অভিযুক্ত আসিফ আলি মুসলিম হওয়ার খবর ছড়াতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি একে সুপরিকল্পিত ‘লভ জেহাদ’ এবং খুন বলে দাবি করে পথ অবরোধে নামে। ডাবল ইঞ্জিন অসম সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষা নিয়েও সোচ্চার হন বিক্ষোভকারীরা। তরুণীর মায়ের কান্না আর "ওরা আমাকে মেরে ফেলবে" বাক্যটি এখন অসমের সীমান্ত পেরিয়ে গোটা দেশের নজর কেড়েছে। এই মৃত্যুর অন্তরালে ষড়যন্ত্র নাকি ‘লভ জেহাদ’। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ তদন্ত জারি রেখেছে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন