রায়গঞ্জ: সুদূর ফ্রান্সের প্যারিস শহরের বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ার এবার রূপ পরিগ্রহ করেছে উত্তর দিনাজপুরের নিভৃত এক জনপদে। আলো আর থিমের চমৎকারিত্বে পঞ্চমীর নিশাতেই সেখানে লেগেছে জমজমাট শারদোৎসবের হাওয়া।
চোপড়ার মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কাঁচাকালী সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির ৫৪তম বর্ষের এই পুজোকে কেন্দ্র করে এবার উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে শুধু আলোকোজ্জ্বল মণ্ডপই নয়, এবারের আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এক ভিআইপি উপস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদ সামলানোর পর এই প্রথম চোপড়ায় পা রেখে উৎসবের প্রাক্কালে মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন রথীন্দ্রনাথ বোস।
বৃহস্পতিবার, পঞ্চমীর পুণ্যতিথিতে ঐতিহ্যবাহী প্রদীপ প্রজ্বলন ও ফিতে কেটে পুজোর শুভসূচনা করেন বিধানসভার স্পিকার। মণ্ডপে পৌঁছানো মাত্রই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উদ্বোধন শেষে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কালজয়ী কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে সম্প্রীতি ও সর্বজনীনতার অমলিন বার্তা দেন স্পিকার।
উপস্থিত জনতা ও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "দুর্গোৎসব শুধুই এক ধর্মীয় আচার নয়; এ হলো বাঙালির আবেগ, হৃদয়ের অনুভূতির আনন্দোৎসব।" মায়ের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে তিনি আশাপ্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলিতে সকলের জীবন সুন্দর ও সুস্থ হয়ে উঠুক এবং বাংলায় আবার তার সোনালী অতীত ফিরে আসুক।
পুজো কমিটির সভাপতি শংকর অধিকারী ও সম্পাদক বরুণ সিংহ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অভিঘাত গোপন রাখতে পারেননি। আবেগপ্লুত কণ্ঠে তাঁদের বক্তব্য, গ্রাম্য পরিবেশের এই পুজোয় এর আগে কোনো মন্ত্রী বা শীর্ষস্তরের প্রশাসনিক প্রতিনিধিকে তারা উদ্বোধক হিসেবে পাননি। বিধানসভার স্পিকারের সশরীরে উপস্থিতি তাঁদের গ্রাম ও পুজো কমিটির কাছে পরম গর্বের বিষয়।
মণ্ডপশিল্পে প্যারিসের বিখ্যাত স্থাপত্যের সুনিপুণ অনুকরণ এবং সঙ্গে নান্দনিক আলোর খেলা—পঞ্চমী থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে গমগম করছে কাঁচাকালীর প্রাঙ্গণ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুরের মূর্চ্ছনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সব মিলিয়ে, উৎসবের দিনগুলিতে উত্তর দিনাজপুরের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে কাঁচাকালীর এই আইফেল টাওয়ার থিম।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন