নাগপুর: রাষ্ট্রীয় সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান কার্যালয়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের ঘরের মাঠ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর লোকসভা কেন্দ্র। এক কথায় যা বিজেপির সবচেয়ে দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানেই বড়সড় অঘটন ঘটাল কংগ্রেস।
দীর্ঘ গণনা প্রক্রিয়ার পর নাগপুর গ্র্যাজুয়েটস বিধান পরিষদ (এমএলসি) আসনের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোলহেকে ৩,২৭১ ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত করলেন কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী অভিজিৎ গোবিন্দরাও ওয়ানজারি। চার রাজ্য কর্নাটক, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের মোট ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনে কংগ্রেসের একমাত্র এবং সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ জয় এসেছে এই নাগপুর থেকেই।
বৃহস্পতিবার নির্বাচনী জয়ের পর সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ ওয়ানজারি জানান, বিগত ছয় বছর ধরে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও গ্র্যাজুয়েটদের জন্য তিনি যে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে গিয়েছেন, জনগণ তারই পুরষ্কার দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নিজের জয়ের বিষয়ে আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত ছিলাম। গত ছয় বছরে এলাকায় যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, ভোটাররা তা মনে রেখেছেন। কংগ্রেস এবং আমাদের সহযোগী দলগুলোর কর্মী-সমর্থকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। কেবল জনসভা বা ভিড় জমিয়ে ভোট পাওয়া যায় না, কাজ দিয়ে মানুষের মন জিততে হয়। সেই কাজের ভিত্তিতেই ভোট চেয়েছিলাম এবং মানুষ আমাদের ভরসা করেছেন।’’
জয়ের আনন্দের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছেন এই নবনির্বাচিত কংগ্রেস বিধায়ক। বর্তমানে ইভিএমের কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ধোঁয়াশা ও সংশয় তৈরি হয়েছে দাবি করে অভিজিৎ বলেন, ‘‘ভোটারদের মধ্যে এখন একটা বড় সংশয় তৈরি হয়েছে যে, তাঁরা যে বোতামটি টিপছেন, ভোটটি সত্যিই তাঁদের পছন্দসই প্রার্থীর বাক্সে যাচ্ছে কি না। বিশ্বের বহু উন্নত দেশেও এখনও ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। আমাদের দেশেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে ব্যালট পেপারে নির্বাচন ফিরিয়ে আনা উচিত।’’
অন্যদিকে, নাগপুরের মাটিতে আকস্মিক এই পরাজয়ে বিজেপি শিবিরে ব্যাকফুটে গেলেও সামগ্রিক ফলাফলের দোহাই দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন পরাজিত বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোলহে। নিজের দলের পরাজয় স্বীকার করেও তিনি বলেন, ‘‘যদি আমরা চারটি রাজ্যের সার্বিক এমএলসি নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব বিজেপির পারফরম্যান্স অত্যন্ত সন্তোষজনক। নাগপুরেও আমাদের প্রচার অভিযানে কোনও ঘাটতি ছিল না। খোদ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস থেকে শুরু করে দলের সমস্ত শীর্ষনেতা প্রতিটি বুথে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আমি তাঁদের এই সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’’
রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, মহারাষ্ট্রের শাসক দলের হেভিওয়েট নেতাদের খাসতালুকে দাঁড়িয়ে হাত-শিবিরের এই জয় কেবল একটি বিধান পরিষদ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালের রাজ্য রাজনীতিতে এই জয়ের ফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। চার রাজ্যের এমএলসি নির্বাচনে যখন বিজেপির দাপট স্পষ্ট, তখন আরএসএস-এর সদর দপ্তরে কংগ্রেসের এই জয় স্বভাবতই পদ্ম-শিবিরকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
Leave a comment