নয়ডা: রাতারাতি গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য! গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে মরিয়া হয়ে এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু করল রাষ্ট্রায়ত্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি)। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার সেক্টর পিআই-১ শাখায় ব্যাঙ্কের অন্দরের কর্মীদের যোগসাজশেই এক বিরাট দুর্নীতির হদিশ মিলেছিল। সেই মামলায় প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে গিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে মোট ৪৩ লক্ষ টাকা ফেরত দিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পিএনবির উচ্চপদস্থ কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যোগ্য প্রতিটি গ্রাহকের পাই পাই করে সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
দিনকয়েক আগেই নয়ডার ওই নির্দিষ্ট শাখা ঘিরে চরম কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ব্যাঙ্কের কিছু অসাধু কর্মী গ্রাহকদের অজান্তেই ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই সমস্ত জমা টাকা সুকৌশলে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করে দিয়েছেন। সবচেয়ে ভীতিপ্রদ বিষয় হলো, অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বস্ব বেরিয়ে গেলেও গ্রাহকরা ঘুণাক্ষরেও তা টের পাননি, তাঁদের মোবাইলে আসেনি কোনো এসএমএস অ্যালার্ট এবং তাঁরা কোনো সম্মতিপত্রেও সই করেননি। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল অভিযুক্ত ব্যাঙ্ক কর্মীরা। ওই এলাকার বহু সাধারণ কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তাঁদের সারাজীবনের সঞ্চয় রেখে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
এই গুরুতর কেলেঙ্কারির তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে পিএনবির রিজিওনাল অফিস। তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সহ ওই শাখার সমস্ত কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয় এবং সেখানে নতুন কর্মী নিয়োগ করে শুরু হয় অভ্যন্তরীণ তদন্ত। গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রশমনে দ্রুত টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ব্যাঙ্ক। এখনও পর্যন্ত তিন জন ভুক্তভোগী গ্রাহকের মোট ৪৩ লক্ষ টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যত জন গ্রাহক এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন, প্রত্যেকের নথি খুঁটিয়ে দেখে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সুরক্ষা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
Leave a comment