কলকাতা: হেমন্তের সোনালী রোদ্দুর গায়ে মাখার কথা থাকলেও প্রকৃতি যেন একেবারে অন্য মেজাজে! ছটপুজো ও উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে জোড়া নিম্নচাপের জাঁতাকলে পিষে গিয়ে কার্যত ভ্যাপসা ও মেঘলা আবহাওয়ায় বন্দি গোটা পশ্চিমবঙ্গ। ঘূর্ণাবর্ত ও ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর অবশিষ্টাংশের জোড়া ফলার কোপে শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ সম্পূর্ণ মেঘাচ্ছন্ন। ছাতা মাথায় দিয়ে চলতে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে। শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির চোখ রাঙানিতে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে সাধারণ মানুষের। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নতুন নিম্নচাপের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত থেকে তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিচ্ছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর মূল অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল হলেও এর পরোক্ষ প্রভাবে জাঁকিয়ে বসেছে মেঘের মেজাজ। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি পসলায় ভিজছে পিচঢালা পথ। একটানা মেঘলা আকাশ আর হালকা বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রার পারদ সামান্য নামলেও অস্বস্তি কাটছে না একচুলও।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও ডুয়ার্স অঞ্চলে দুর্যোগের ছবিটা আরও বেশি ভয়ঙ্কর। শুক্রবার থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে। দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির জেরে জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতার সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইছে ঝোড়ো দমকা হাওয়া। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলতে পারে। তবে আগামী কাল অর্থাৎ শনিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে সামান্য আশার আলো দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
Leave a comment