আগ্রা: মোঘল স্থাপত্যের অনবদ্য বিস্ময়, ভালবাসার অমর প্রতীক তাজমহলের মার্বেল চত্বরে এবার এক অন্য অনুভূতির কোলাজ। শরতের মিঠে রোদে প্রেমে আঁকা এক চিলতে ক্যানভাস। স্ত্রী রয়া সামি খান ও পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ভালোবাসার এই মহামানবীয় সৌধ পরিদর্শনে এলেন জনপ্রিয় গায়ক তথা সুরকার আদনান সামি।
সম্প্রতি আগ্রার তাজমহল প্রাঙ্গণে কাটানো কিছু বিশেষ ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগী ও অনুগামীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই প্রখ্যাত শিল্পী। প্রেমের সৌধের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে আদনানের এই আত্মিক সফর একদিকে যেমন তাঁর ভক্তদের মুগ্ধ করেছে, তেমনই অন্যদিকে নজর কেড়েছে শিল্পীর মেদহীন, সুঠাম শরীর ও চমকপ্রদ শারীরিক রূপান্তর। সব মিলিয়ে, প্রেমের স্মারকের সামনে সুরের জাদুকরের এই দিনযাপন নিয়ে এখন বলিপাড়ায় ও সোশাল মিডিয়ায় সমান চর্চা।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, সুরের এই কিংবদন্তি কালো পোশাকে অত্যন্ত সুদর্শনের মতো পোজ দিয়েছেন স্ত্রীর পাশাপাশি। অন্যদিকে, তাঁর সহধর্মিণী রয়া সামি খানের পরনে ছাইরঙা সোয়েটার, নীল জিন্স, রোদচশমা এবং মাথায় অফ-হোয়াইট টুপি।
দু’জনের রসায়ন এবং চোখের ভাষায় স্পষ্ট এক অদ্ভুত আত্মিক টান। পরিবারের সঙ্গে তাজমহলে কাটানো এই সুন্দর মুহূর্তগুলির ছবি ভাগ করে নিয়ে আদনান লিখেছেন, ‘‘চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আগ্রায় এসেছিলাম। এই বিস্ময়কর ‘প্রেমের সৌধ’ তাজমহল যত বারই দেখি না কেন, তা প্রতি বারই সমান নজরকাড়া এবং অপূর্ব লাগে। বিশেষ করে যখন আমার ভালোবাসার পরিজনদের উষ্ণ ভালোবাসায় ঘেরা থাকি, তখন এই অনুভূতি আরও স্পেশাল হয়ে ওঠে।’’
তবে কেবল পারিবারিক সৌহার্দ্য বা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই নয়, এই সফরের ছবিতে নেটিজেনদের চোখ আটকেছে আদনান সামির অসামান্য শারীরিক পরিবর্তনের দিকে। এক সময় প্রায় ২৩০ কেজি ওজনের আদনান আজ সম্পূর্ণ অন্য এক মানুষ। কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মানুবর্তিতার জোরে বিগত কয়েক বছরে তিনি নিজের শরীর থেকে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই রূপান্তর প্রায় অবিশ্বাস্য।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের এই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং জীবনযাত্রার কথা স্মরণ করে আদনান আগে বহু বার জানিয়েছিলেন, এই ওজন কমানো তাঁর কাছে কেবল ভালো লাগার বিষয় ছিল না, বরং ছিল বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ওজনের আধিক্যের কারণে চিকিৎসকেরা তাঁকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ।
কোনও রকম অস্ত্রোপচার বা কৃত্রিম উপায়ের সাহায্য না নিয়ে, কেবল কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা এবং প্রতিদিনের শরীরচর্চার মাধ্যমেই তিনি এই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন। ভাত, রুটি, চিনি এবং তেল সম্পূর্ণ ত্যাগ করে কীভাবে নিজেকে নতুন করে তৈরি করা যায়, তা প্রমাণ করে আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন আদনান।
সংগীত জগতে আদনান সামির যাত্রা এক অনন্য স্বর্ণালী অধ্যায়। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের সঙ্গে ‘কভি তো নজর মিলাও’ অ্যালবামের মাধ্যমে ভারতীয় শ্রোতাদের হৃদয়ে প্রথম ঝড় তুলেছিলেন তিনি। এরপর ‘তেরা চেহারা’ অ্যালবাম এবং তার অন্তর্গত ‘লিফট করা দে’-র মতো সুপারহিট গান তাঁকে প্রতি ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। পরবর্তীতে বলিউডেও একের পর এক কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘অজনবি’ ছবির ‘মেহবুবা মেহবুবা’, ‘সাথিয়া’-র ‘এ উড়ি উড়ি’ কিংবা ‘মাই নেম ইজ খান’-এর ‘নূর-ই-খুদা’— তাঁর মেলোডিয়াস কণ্ঠ আজও শ্রোতাদের মায়াজালে আবদ্ধ রাখে। ২০১৫ সালে সালমান খানের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে কাওয়াল হিসেবে তাঁর বিশেষ উপস্থিতি এবং ‘ভর দো ঝোলি মেরি’ গানটি সংগীতের ইতিহাসে এক অমর সৃষ্টি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
আগ্রার বুকে প্রেমের সৌধকে সাক্ষী রেখে আদনানের এই ভ্রমণ তাই কেবল এক সাধারণ পারিবারিক ছুটি কাটানো নয়; বরং জীবনকে জয় করার এবং ভালোবাসার শক্তিতে নতুন করে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল উদযাপন।
Leave a comment