নতুন দিল্লি: কড়া বিধিনিষেধ, কড়া নজরদারি— তবুও রোখা গেল না দূষণের তাণ্ডব। মঙ্গলবাসরীয় সকালে ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়াশার চাদরে মুড়ে ঘুম ভাঙল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির। বায়ুদূষণ রুখতে বিএস-৬ মানদণ্ডহীন পুরনো যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টে দীপাবলি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লির বাতাস আশঙ্কাজনকভাবে বিষিয়ে উঠছে, যা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবিদরা।
সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (সিপিসিবি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৭টাতেই জাতীয় রাজধানীর গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) লাফিয়ে ৩৩১-এ পৌঁছে গিয়েছে, যা আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব খারাপ’ শ্রেণিভুক্ত। এখানেই শেষ নয়, দিল্লির অন্তত আটটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বাতাসের গুণমান সূচক ৪০০-এর গণ্ডি পার করে ফেলেছে, যা পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ বা অতি সঙ্কটজনক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘন ধোঁয়াশার এই প্রভাব শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নেই; সংলগ্ন নয়ডা এবং গুরুগ্রামের বিশাল বিশাল বহুতল ভবনগুলিও যেন এক নিমিষে ঘন ধোঁয়ার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১২০ কিমি বেগে তাণ্ডব ‘মুরাসু’র! ল্যান্ডফল শেষ হতেই অন্ধ্রে জলমগ্ন রাস্তা, বাতিল একাধিক বিমান-ট্রেন
পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক দিন ধরেই দিল্লির বাতাসের মান ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। সোমবার সকাল ৯টায় একিউআই ছিল ৩১২, যা বিকেলে বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৪-এ। মঙ্গলবার সকালে তা আরও এক ধাপ বেড়ে ৩৩১ স্পর্শ করে। উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত দিল্লিতে বিএস-৬ বহির্ভূত যানবাহন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সমস্ত ধরনের নির্মাণকাজ এবং বাড়ি ভাঙার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যদিও সিএনজি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও জরুরি পরিষেবা এই ছাড়ের আওতায় রয়েছে। কিন্তু সমস্ত সাবধানতা এবং আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের পরও বায়ুর গুণমানের এই ধারাবাহিক পতন প্রশাসনকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
সামনেই আলোর উৎসব দীপাবলি। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি থাকায় উৎসবের আবহে আতসবাজির ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও কতটা মারাত্মক করে তোলে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment