তিরুঅনন্তপুরম: ইনস্টাগ্রামে আসা একটি সাধারণ মেসেজ কীভাবে যে একটি কিশোরের জীবন কেড়ে নিতে পারে, তা মর্মে মর্মে টের পেল কেরলের তিরুঅনন্তপুরম। সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরের দিনই এক ফাঁকা জায়গা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হলো এমডি অভিরাম নামের এক কিশোরের নিথর দেহ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ত্রিকোণ প্রেমের ত্রস্ত সম্পর্ক এবং পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পরেই মৃত কিশোরের তিন বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে, যা থেকে একে একে বেরিয়ে আসছে লোমহর্ষক সব তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রামে একটি মেসেজ পেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল অভিরাম। কিন্তু রাত ৮টা বেজে যাওয়ার পরেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপর পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে স্থানীয় শ্রীকরীয়ম থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, পাঙ্গাপপারা এলাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল ওই কিশোরকে। কাকতালীয়ভাবে, সেই পাঙ্গাপপারা এলাকারই একটি ফাঁকা জায়গা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার হয় অভিরামের দেহ।
আরও পড়ুন: কার উপর গর্জে উঠলেন সিন্ধু! https://hiddenstories.news/2026/11/03/pv-sindhu-slams-sai-over-badminton-funding-cut-european-tour-controversy/
এই ঘটনায় তদন্তের গভীরে গিয়ে পুলিশ ভিকটিমের তিন বন্ধুকে আটক করে, যার মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই কিশোরীর সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল অভিরামের। এই ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই কি এই খুন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে পুলিশি জেরায় ওই কিশোরী দাবি করেছে যে, তার অন্য দুই বন্ধু মিলে অভিরামকে খুন করে। এমনকি প্রমাণ লোপাট করতে স্থানীয় এক দুষ্কৃতীকে ডেকে এনে মৃতদেহ বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ধৃত নাবালকদের একজনের বিরুদ্ধে পূর্বে ডাকাতির মতো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকায় পুলিশের সন্দেহ, ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। শ্রীকরিয়ম থানার স্টেশন হাউস অফিসার সজু কুমার জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Leave a comment