মুম্বই: আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাদেই আইপিএল ২০২৭-এর রিটেনশন বা খেলোয়াড় ধরে রাখার চূড়ান্ত সময়সীমা। আর তার আগে থেকেই দলবদলের বাজারে ও ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা।
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) তাদের কোচিং স্টাফে বড় রদবদল ঘটিয়ে কিংবদন্তী ভারতীয় পেসার জহির খানকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করেছে। এই আবহেই সিএসকে-র রিটেনশন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার ও প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া।
অন্যদিকে, অন্যদিকে আর এক মেগা ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরেও বড়সড় ভাঙনের গুঞ্জন! হার্দিক ও সূর্যকুমার যাদবকে দলে টানতে ঝাঁপিয়েছে প্রীতি জিন্টার পঞ্জাব থেকে শুরু করে লখনউ সুপার জায়েন্টস!
সিএসকে-তে রদবদল: ১৪ কোটির প্রশান্ত বীরকে ছাঁটার পরামর্শ আকাশের
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে আকাশ চোপড়া চেন্নাইয়ের রিটেনশন তালিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রোটিয়া ব্যাটার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, কিউই পেসার ম্যাট হেনরি, ক্যারিবিয়ান স্পিনার আকিল হোসেন, ভারতীয় পেসার অংশুল কম্বোজ এবং ইংলিশ অলরাউন্ডার জেমি ওভার্টনকে ধরে রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তবে ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি চমকপ্রদভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজির উচিত অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ম্যাট শর্ট এবং আনক্যাপড ভারতীয় অলরাউন্ডার প্রশান্ত বীরকে রিলিজ বা ছেড়ে দেওয়া।
প্রশান্ত বীরকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়াটা সিএসকে শিবিরের জন্য এক বিরাট শিরোনাম হতে পারে। কারণ ঠিক আগের নিলামেই এই বাঁহাতি ব্যাটার ও বোলারকে ১৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে আইপিএল ইতিহাসের যৌথভাবে সবচেয়ে দামি আনক্যাপড খেলোয়াড় বানিয়েছিল চেন্নাই।
কিন্তু গত মরশুমে ৬টি ম্যাচ খেললেও প্রশান্তকে চূড়ান্তভাবে অব্যবহৃত রাখা হয়েছিল। তিনি মাত্র দুই ওভার বল করে কোনও উইকেট পাননি। নিচের দিকে ব্যাট করতে নেমে ১৩৪.৩২ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন মাত্র ৯০ রান।
অন্যদিকে, টানা তিন মরশুম প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে নিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ কোটি টাকার বেতন পাওয়া ঋতুরাজের গত মরশুমের মন্থর ব্যাটিং (স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২৩.৪৪) নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
তবে আকাশ চোপড়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, সে ১৮ কোটি হোক বা ২৫ কোটি— সে দলের অধিনায়ক এবং ওপেনার। ওকে অবশ্যই রিটেন করা উচিত। কেউ আমায় বলেছিল সিএসকে ওকে ছেড়ে দেবে, আমি বলেছিলাম, ‘তোমরা কি পাগল হয়েছ?’
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে বড়সড় ভাঙন! পঞ্জাবের নিশানায় হার্দিক, লখনউয়ের নজরে সূর্য
চেন্নাইয়ের অন্দর যখন গুছিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে বড়সড় ওলটপালটের ইঙ্গিত মিলেছে। স্পোর্টস তকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএল ২০২৭-এর আগে মুম্বইয়ের দুই অন্যতম তারকা খেলোয়াড়কে দলে টানার জন্য জোর কসরত শুরু করে দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
পঞ্জাব কিংস নাকি হার্দিককে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে অর্শদীপ সিংকে সোয়াপ বা আদানপ্রদান করার কথা ভাবা হলেও, মুম্বই ম্যানেজমেন্ট এই চুক্তিতে আরও কিছু অতিরিক্ত খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে।
২০২৪ সালে মুম্বইয়ে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই হার্দিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জলঘোলা হয়েছে। এর আগে গুজরাত টাইটান্সের অধিনায়কত্ব চেয়ে না পাওয়ায় তিনি মুম্বইয়ে ফিরেছিলেন। তবে ৩২ বছর বয়সের এই অলরাউন্ডারের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং বল ও ব্যাট হাতে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা যে কোনও দলের কাছেই অমূল্য সম্পদ।
অন্যদিকে, লখনউ সুপার জায়েন্টস (LSG) আবার নজর দিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের ওপর। ঋষভ পন্থের সঙ্গে সম্পর্কছেদের পর লখনউ এমন একজন নির্ভরযোগ্য নেতা খুঁজছে, যিনি দলকে স্থায়িত্ব দিতে পারেন।
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকায় এলএসজি তাঁকে নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব দিতে আগ্রহী। তবে মুম্বই ফ্র্যাঞ্চাইজি কোনোভাবেই একসঙ্গে হার্দিক ও সূর্যকুমার, দু’জনকেই হাতছাড়া করতে নারাজ। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, মুম্বই তখনই সূর্যকুমারকে লখনউয়ের কাছে ট্রেড করার কথা বিবেচনা করবে, যদি হার্দিক দলের সঙ্গেই থেকে যান।
আইপিএলের মেগা রিটেনশন ও ট্রেডিং উইন্ডোর এই টানটান উত্তেজনায় আগামী দিনে কোন দল কোন রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
Leave a comment