•
Home Top-News JP Nadda Convoy Attack: ছ’বছরের লুকোচুরি শেষ! নাড্ডার কনভয়ে ঢিল মারা অভিষেক ঘনিষ্ঠ সেই ইমরান গ্রেফতার
Top-Newsকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

JP Nadda Convoy Attack: ছ’বছরের লুকোচুরি শেষ! নাড্ডার কনভয়ে ঢিল মারা অভিষেক ঘনিষ্ঠ সেই ইমরান গ্রেফতার

Share
ফাইল ছবি
Share

কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কালীঘাট তৃণমূলের টাকার উৎস্য তিনি ধরে ফেলেছেন। বুধবার বেশ রাতে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার পরেই ‘অপারেশন ডায়মন্ড হারবারে’ নিজেদের জালে ইমরান হাসানকে তুলে নিল পুলিশ। 

এই সেই ইমরান, যে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় তৎকালীন বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার কনভয়ের উপর ঢিল ছুঁড়েছিল বলে এতদিন অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনার ছ’বছর পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতাকে বুধবার গভীর রাতে উস্তি থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল দেউলা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। 

ধৃত ইমরান মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা এলাকার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে ছিলেন। নাড্ডার কনভয়ে হামলার পাশাপাশি ভোটের আগে এলাকায় চরম অশান্তি সৃষ্টি, হুমকি প্রদান, বিজেপি নেতাকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন : অভিষেকের খাসতালুকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়, উদ্ধার সোয়া কোটি টাকা!

ছ’বছর আগের সেই রক্তাক্ত বৃহস্পতিবার

স্মৃতির পাতা হাতরালে ফিরে আসে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ দিনটি। তখন একুশে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়েই সভা করতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। সেই কনভয়ে নাড্ডার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা।

অভিযোগ উঠেছিল, ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিকল্পিতভাবে ঘেরাও করা হয় বিজেপি নেতাদের কনভয়। প্রথমে সরিষা এবং পরে ফলতায় অতর্কিতে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। একের পর এক লাঠি ও ইটের ঘায়ে নিশানা করা হয় নেতাদের গাড়ি। 

ইটের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দিলীপ ঘোষের কনভয়ের গাড়ি। এই হামলায় রক্তাক্ত হন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ একাধিক কর্মী। এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে দিল্লির দরবার পর্যন্ত গড়ায়।

আরও পড়ুন : তৃণমূলের পার্টি অফিসে ১ কোটিরও বেশি নগদ! নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র? মুখ খুলে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারি

তৃণমূল জমানায় এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সেভাবে কোনও অগ্রগতি না হলেও, পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোটা ঘটনার পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেয় পুলিশ। নতুন করে শুরু হয় জোরদার তদন্ত। পুলিশ সূত্র মারফত জানা যায়, তদন্তে নেমে প্রথমেই মগরাহাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৌসিফ আহমেদ মোল্লা ওরফে বাচ্চু, আরিফ হোসেন এবং আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের একটানা জেরা করতেই একে একে বেরিয়ে আসে সঞ্জীব মণ্ডল এবং রিপন নামক আরও দুই নেতার নাম। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁদেরও জালে তোলে পুলিশ।

তদন্তের পরিধি যত এগোতে থাকে, ততই ফাঁস আরও শক্ত হতে থাকে। সম্প্রতি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গির খান নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে উস্তি থানা। আর এবার সেই সূত্র ধরেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সরাসরি অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত যুব নেতা ইমরান হাসান। গোয়েন্দাদের দাবি, হামলার দিন গোটা পরিকল্পনা রূপায়ণে এবং ভিড় উসকে দিতে সামনের সারিতে ছিলেন এই ইমরান।

রাজনৈতিক পারদ চড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে

নাড্ডার কনভয়ে হামলার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দীর্ঘ ছ’বছর পর নেতার গ্রেফতারির ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে রাজ্য-রাজনীতিতে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ইমরানকে জেরা করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কাদের মদত ছিল এবং অন্য কোনও প্রভাবশালী নেতার যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোটের আগের উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই হামলায় ঠিক কী ছক কষা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *