নয়াদিল্লি: ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় পুলিশি ক্ষমতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিয়ে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এতদিন আইন অনুযায়ী কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রেফতার’ করার পর থেকেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানোর নিয়ম প্রচলিত ছিল। কিন্তু পুলিশি হেফাজতে কাউকে স্রেফ ‘আটক’ বা ডিটেইন করে রেখে দিনের পর দিন বসিয়ে রাখার ফাঁকফোকড় এবার চিরতরে বন্ধ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, শুধু গ্রেফতারই নয়, এবার থেকে পুলিশ কাউকে আটক করার পর মুহূর্ত থেকেই ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা গণনা শুরু হবে। নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করতেই হবে, অন্যথায় তাঁকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দিতে হবে।
আইনমহলের মতে, পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে দিনের পর দিন মানুষকে আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। সেই সমস্ত অসদুপায় রুখতেই সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিক নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরপসারি প্রভাব ফেলতে চলেছে। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘গ্রেফতার’ এবং ‘আটক’— এই দুই শব্দের মধ্যে কোনও ধরনের কৃত্রিম ফারাক বা তফাত করার সুযোগ নেই। পুলিশ যদি কাউকে সুকৌশলে কাগজে-কলমে গ্রেফতার না দেখিয়ে দীর্ঘক্ষণ ‘আটক’ করে রাখে, তবে সেই সময়টিকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের এই ধরনের কোনো একতরফা বা বেআইনি নীতি সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী তথা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলেই গণ্য করা হবে।
আরও পড়ুন: “ক্ষমতা থাকলে সংসদে আসুন”! SIR বিতর্কে রাহুলকে শাহী চ্যালেঞ্জ https://hiddenstories.news/2026/11/05/amit-shah-challenges-rahul-gandhi-parliament-debate-sir-issue/
নয়া এই নির্দেশিকায় সুপ্রিম কোর্ট দেশের সমস্ত নিম্ন আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্যও কঠোর বার্তা দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, এখন থেকে পুলিশ যখনই কোনো অভিযুক্তকে রিমান্ড বা পুলিশি হেফাজতের আবেদন নিয়ে হাজির করবে, তখন বিচারকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আটকের প্রকৃত তারিখ এবং সঠিক সময় নথিপত্র বা খাতা-কলমে পরিষ্কারভাবে লিখে রাখতে হবে। এরপর বিচারককে নিজ দায়িত্বে খতিয়ে দেখতে হবে যে, প্রথম আটকের মুহূর্ত থেকে ২৪ ঘণ্টার আইনানুগ সময়সীমা যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না। যদি কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন যে অভিযুক্তকে আইনি সীমার চেয়েও বেশি সময় ধরে অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তবে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের রিমান্ডের সেই আবেদন খারিজ করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। শীর্ষ আদালতের এই কড়া পদক্ষেপে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা আরও এক ধাপ পোক্ত হলো বলেই মনে করছেন বিশিষ্ট আইনজীবীরা।
Leave a comment