নয়াদিল্লি: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় বিঁধে সরাসরি চ্যালঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে খোলা রাস্তায় বিতর্কের যে চ্যালেঞ্জ রাহুল জানিয়েছিলেন, তা খারিজ করে অমিত শাহের সাফ বার্তা, অহেতুক রাজপথে ভিড় না জমিয়ে নৈরাজ্য না ছড়িয়ে সাহস থাকলে সংসদ ভবনের অন্দরে এসে আলোচনা ও তর্কে অংশ নিন বিরোধী দলনেতা। হরিয়ানার কার্নালে এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঙ্কার দেন, প্রয়োজনে নির্বাচনী ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য লোকসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে তৈরি কেন্দ্র।
‘২০১৪, ২০১৯, ২০২৪-এ কোথায় ছিল এসআইআর?’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি বিরোধী শিবিরের সোচ্চার হওয়া এবং রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশকেও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেসের এই টানা বিরোধিতাকে কটাক্ষ করে অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, “২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদী সরকার এল, তখন কোথায় ছিল এই এসআইআর (SIR)? তখন তো আপনারা দেশ থেকে পুরোপুরি মুছে গিয়েছিলেন। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে কোথায় ছিল এসআইআর? তখনও তো আপনারা শোচনীয়ভাবে হেরেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও কোনও এসআইআর ছিল না, তবুও আপনারা পরাস্ত হয়েছেন। এমনকী হরিয়ানা বা মহারাষ্ট্রের নির্বাচনেও তো কোনও এসআইআর ছিল না, তা সত্ত্বেও দেশের মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।”

আরও পড়ুন : অগ্নিবীরদের কপাল খুলল! চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে ৬ বছর করল কেন্দ্র, স্থায়ী হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ বাড়ল দ্বিগুণ!
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংসদে অচলাবস্থা তৈরি এবং রাজপথে অরাজকতা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে অমিত শাহ আরও বলেন, “আপনারা সংসদকে চলতে দেন না। সংসদের ভেতরে ওয়াকআউট আর হই হুল্লোড় করেন, আর বাইরে রাস্তায় লোক জড়ো করে দেশে নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। রাহুল গান্ধী যদি রাস্তায় নেমে লোক জড়ো করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার রাজনীতি করতে চান, তবে ভারতীয় জনতা পার্টির কোটি কোটি কর্মীরা রাজপথেই তাঁর যোগ্য জবাব দেবে।”
‘ফাঁকা ময়দান আর রাহুলের গোপন বিদেশ সফর’
দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি (INDI) জোটের সাম্প্রতিক সমাবেশকেও তীব্র কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। বিরোধী শিবিরের জনসভাকে ফ্লপ শো বলে দাবি করে তিনি জানান, “সারা দেশ থেকে কংগ্রেস মানুষকে দিল্লিতে আসার আবেদন জানিয়েছিল।
১০ লাখ মানুষের সমাগমের কথা বলা হয়েছিল। অথচ যে ময়দানের ধারণক্ষমতাই মাত্র ৭০ হাজার, সেদিনের সভায় সেই ময়দানও আধাকালি ছিল। দেশের মানুষ যে বিরোধীদের এই রাজনীতির সঙ্গে নেই, এটা তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। বারবার ভারতের জনতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।”
আরও পড়ুন : রাজস্থানের সীমান্তে রেললাইনে রহস্যমৃত্যুর ফাঁদ? ট্রেন যাওয়ার পরই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল ভারত-পাক সীমান্ত!
জনসভার শেষ পর্বে লোকসভার বিরোধী দলনেতার ঘন ঘন বিদেশ সফর নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাহুলের সফরসূচি নিয়ে সরাসরি জবাবদিহি চেয়ে তিনি বলেন, “আপনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বিরোধী দলনেতা। দেশবাসীর জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে আপনি কবে, কোথায় এবং কেন বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। নিজের গোপন বিদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত বিবরণ ও হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করুন রাহুল গান্ধী।”
আগামী দিনে রাজপথ বনাম সংসদের এই দ্বৈরথ যে জাতীয় রাজনীতিতে আরও গরম হাওয়া ছড়াবে, তা শাহের এই চরম হুঁশিয়ারিতেই স্পষ্ট।
Leave a comment