মুম্বই: জল্পনা ছিল দীর্ঘদিন ধরেই, তবে এ বার সিলমোহর পড়ল অফিশিয়ালি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম মেগা প্রজেক্ট, পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’-এর প্রথম পর্ব বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতেই প্রকাশ্যে এল সবচেয়ে বড় চমক।
ছবির পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্যেই ঘটে গেল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত! বহুল প্রতীক্ষিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে মহাবীর হনুমানের ভূমিকায় রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করলেন বলিউড তারকা সানি দেওল।
প্রেক্ষাগৃহে কয়েক সেকেন্ডের এই ক্যামিও ফুটে উঠতেই যে ধরনের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা কার্যত নজিরবিহীন। সমাজমাধ্যমের একাধিক রিঅ্যাকশন অনুযায়ী, রামের ভূমিকায় অভিনয় করা রণবীর কাপুর কিংবা রাবণের চরিত্রে নজর কাড়া দক্ষিণী সুপারস্টার ইয়াশের থেকেও বেশি গর্জন আর হাততালি কুড়িয়েছে সানি দেওলের এই কয়েক মুহূর্তের এন্ট্রি সিন।
কেমন ছিল সানির সেই আইকনিক এন্ট্রি?
ছবির একেবারে শেষলগ্নে, পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে প্রবেশ ঘটানো হয়েছে সানি দেওলের। পর্দায় দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় গভীর জঙ্গল, আর সেখানে আচমকাই অজানা এক অলৌকিক উপস্থিতিতে দিগ্বিবিদিক শূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে বন্য পশুপাখির দল। আবহাওয়া মুহূর্তের মধ্যে থমথমে থেকে মেঘলা হয়ে ওঠে।
সানি দেওলের মুখ সরাসরি শুরুতে না দেখালেও, গগনভেদী গর্জন আর বীর বিক্রমে আকাশপথে উড়ে যাওয়ার দৃশ্যে তাঁর মহাকায় চেহারা নজর কাড়ে দর্শকদের। তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে বজ্রকণ্ঠের “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি।
তবে দৃশ্যায়নের থেকেও বেশি চমক সৃষ্টি করেছে এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। ভারতীয় সংগীত জগতের পাঁচ দিকপাল গায়ক, কৈলাশ খের, শঙ্কর মহাদেবন, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সুখবিন্দর সিং এবং মোহিত চৌহানকে একসঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছে সানির এই আত্মপ্রকাশের মুহূর্তটির জন্য।
এই পাঁচ সংগীত নক্ষত্রের কণ্ঠের মেলবন্ধনে ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে হনুমান চালিশা। আর সেই সুরের মূর্ছনায় প্রেক্ষাগৃহ পরিণত হয় এক অন্য মাত্রার আবেগ ও ভক্তিতে।
দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা ও উল্লাস
ছবিটি মুক্তির পর থেকেই মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (প্রাক্তন টুইটার) সানি দেওলের এই এন্ট্রি দৃশ্য নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিও ক্লিপ এবং সিনেমা হলের প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। এক নেটিজেন লিখেছেন, “সানি দেওলের প্রবেশ দৃশ্য দেখার মতো ছিল! ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি এবং কালজয়ী হনুমান চালিশা বেজে ওঠা… এ যেন এক স্বপ্নের দৃশ্য!”
অন্য এক সিনেপ্রেমী অনুরাগী মন্তব্য করেছেন, “‘গদর ২’-এর পর সানি দেওলের জন্য কী দারুণ একটা সময় শুরু হল! মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য মহাবীর হনুমান রূপে এসে উনি যা ম্যাজিক করলেন, পুরো সিনেমা হলে গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা হলো। ২০২৮ সালে যখন ‘রামায়ণ পার্ট ২’ আসবে, তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কিন্তু সানিই থাকবেন।”
অন্য এক ভক্ত লিখেছেন, “সানি দেওলের বিশাল চেহারা, পেশীবহুল শরীর এবং অসামান্য স্ক্রিন প্রেজেন্স তাঁকে হনুমানজির চরিত্রের জন্য একদম পারফেক্ট করে তুলেছে। উনি স্ক্রিনে আসার মুহূর্তেই হলের পুরো পরিবেশ বদলে যায়। ওঁর থেকে ভালো এই চরিত্র আর কেউ ফুটিয়ে তুলতে পারতেন না।”
৪,০০০ কোটির মেগা ড্রিম প্রজেক্ট
প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে তৈরি নীতেশ তিওয়ারির এই ‘রামায়ণ’ কেবল ভারতেই নয়, সমগ্র বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিনেমা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নীতেশ তিওয়ারির দক্ষ পরিচালনায় এই ছবিতে এক ঝাঁক তারকার সমাগম ঘটেছে।
রাম ও সীতার চরিত্রে যথাক্রমে রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবী নজর কেড়েছেন, পাশাপাশি লঙ্কেশ্বরের ভূমিকায় অভিনয় করছেন কন্নড় তারকা ইয়াশ। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন রবি দুবে, বিবেক ওবেরয়, কুণাল কাপুরের মতো প্রথম সারির অভিনেতারা।
তবে পার্ট ১-এর এই কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপের পর এটা স্পষ্ট, ২০২৮-এ যখন ‘রামায়ণ: পার্ট ২’ মুক্তি পাবে, তখন সানি দেওলের এই হনুমান অবতারই বক্স অফিসে আসল ঝোড়ো হাওয়া তুলবে।
Leave a comment