নয়াদিল্লি: ফের চিনচিন করে উঠল আম বাঙালির হৃদয়!
কারণ, উৎসবের মরশুম আসতেই ফের আমজনতার হাত পুড়ছে চিনির দামে। উৎসবের মুখে বাজারে চিনির কৃত্রিম সরবরাহ সঙ্কট দূর করতে এবং মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে নরেন্দ্র মোদী সরকার একাধিক তৎপরতামূলক পদক্ষেপ করেছিল।
কিন্তু এত কিছুর পরেও কোনও লাভ হল না। গত এক মাসে দেশের খুচরো এবং পাইকারি, উভয় বাজারেই চিনির দাম কেজিতে ৪ টাকারও বেশি লাফিয়ে বেড়েছে। সরকারের সমস্ত কড়া নির্দেশিকা ও নজরদারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাজারে চিনির দাম বেড়েই চলেছে, যা মধ্যবিত্তের পকেটে বড়সড় টান ধরাচ্ছে।
মেট্রো শহরগুলির মধ্যে শীর্ষে তিলোত্তমা কলকাতা
কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে নয়াদিল্লিতে চিনির দৈনিক গড় খুচরো দর প্রতি কেজি পৌঁছেছে ৫৯.৫০ টাকায়। পাইকারি বাজারের ছবিটাও সম্পূর্ণ এক, যেখানে পাইকারি দরে চিনির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৫৫.৪০ টাকা প্রতি কেজি।
তবে দেশের সমস্ত মেট্রো শহরকে পিছনে ফেলে বর্তমানে চিনির দাম সব থেকে বেশি চড়া রয়েছে খাস কলকাতাতেই। তিলোত্তমায় খুচরো বাজারে এক কেজি চিনির দাম সরাসরি ছুঁয়েছে প্রায় ৬৫ টাকা, আবার বহু জায়গায় খুচরো বিক্রেতারা এর থেকেও বেশি দাম নিচ্ছেন।
কলকাতার পরেই রয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি ও বাণিজ্যনগরী মুম্বই। দিল্লিতে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৪ টাকা (যা ঠিক এক বছর আগেও ছিল ৪৬ টাকা) এবং মুম্বইয়ে এই দাম বেড়ে হয়েছে ৬১ টাকা প্রতি কেজি (এক বছর আগে যা ছিল ৪৫ টাকা)।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দেশের বাজারে চিনির দাম একলাফে কেজি প্রতি ১২ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি ও খুচরো উভয় বাজারেই এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে সাধারণ মানুষের।
আরও পড়ুন: জনগণনার জেরে পিছিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক!
কেন হঠাৎ এই লাগামছাড়া দামবৃদ্ধি?
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত ২০২৫-২৬ সালে দেশে চিনির উৎপাদন অনুমানের তুলনায় অনেকটাই কম হওয়ায় দামের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ বজায় রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎসবকালীন অতিরিক্ত চাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে ফসলহানি, বিশ্ববাজারে চিনির জোগান ঘাটতি এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারির প্রবণতা। এই সমস্ত কারণ একসঙ্গে মিলে চিনির বাজারকে কার্যত অগ্নিমূল্য করে তুলেছে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বাজার সামাল দিতে আসরে নেমেছে কেন্দ্র। সরকারের পক্ষ থেকে গুদামগুলিতে মজুতের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ, আমদানি বৃদ্ধি, কালোবাজারির ওপর কঠোর নজরদারি এবং আখ মাড়াইয়ের কাজ দ্রুত শুরু করার মতো একাধিক জরুরি পদক্ষেপ করা হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধিতে আশার আলো দেখছে এনএফসিএসএফ
এই ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি ও সঙ্কটের মাঝে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কোঅপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ লিমিটেড (এনএফসিএসএফ)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য। তাদের সোমবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) প্রথম মাসেই ভারতে প্রায় ৮.৪৫ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে।
চলতি বছরের গত ৮ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে আখ মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৫২টি চিনিকল সক্রিয়ভাবে চিনি উৎপাদনে অংশ নিয়েছে। উৎসবের মরশুমে অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির জোগান বাড়াতে এবং দামের পারদ নামাতে এই অতিরিক্ত উৎপাদন কতটা সাহায্য করে, এখন সেটাই দেখার।
তবে আমজনতা তথা রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশাসনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও মজুতদারদের দৌরাত্ম্য না কমলে চিনির বাজারে স্বস্তি ফেরা কঠিন।
Leave a comment