কলকাতা: রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণার পরপরই নিজের খাসতালুক চেতলায় চরম অপমানের মুখে পড়লেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার দুপুরে চেতলায় তাঁর বাড়ির অদূরেই ঝুলতে দেখা গেল একের পর এক বিতর্কিত ‘গদ্দার’ পোস্টার। এই ঘটনার পরই দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টারের নিচে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল একধাক্কায় প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
কলকাতার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির কাছে সাঁটানো ওই পোস্টারে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে তাঁর সততা নিয়ে। পোস্টারে লেখা রয়েছে, “নিজের জামাই ও নিজের মেয়ের বেলায় কোন ফর্মুলায়, রক্ত না ভক্ত?” দীর্ঘ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব এবং মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বন্দর কেন্দ্র থেকে কষ্টার্জিত জয়ের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মমতার বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার টালমাটাল। এমনকি আসন্ন পুরভোটে লড়াই না করা এবং বিধায়ক হিসেবে মেয়াদ শেষে রাজনীতি ছাড়ার কথাও ঘনিষ্ট মহলে জানিয়ে দিয়েছিলেন ফিরহাদ।
পোস্টারে যুব তৃণমূলের নাম ব্যবহার করা হলেও সংগঠনের একাংশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, যুব সংগঠনের নাম বদনাম করতে কে বা কারা পিছন থেকে এই চক্রান্ত করেছে, তা অবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্ত করে খুঁজে বের করা উচিত। শাসকদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমন চক্রান্ত বলে দাবি করছেন স্থানীয় যুব নেতৃত্ব।
বিতর্কিত এই পোস্টার পড়ার পর প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে মুখ না খুললেও চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বাবার মতো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে নিজের পাড়াতেই ‘গদ্দার’ পোস্টার পড়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অপমানজনক। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের রাজনীতিতে চরম পটপরিবর্তনের পর চেতলার বুকে ফিরহাদ বিরোধী এই সুর আগামী দিনে কলকাতার রাজনীতিতে নতুন কোনও বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
Leave a comment