নয়াদিল্লি: দেশের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী তথা ‘লৌহপুরুষ’ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক কারণে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে কংগ্রেস। জন্মজয়ন্তীর সকালেই প্রধান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শনিবার রাজধানীর বুকে আয়োজিত ‘একতা দৌড়’ (Ekta Run) বা রান ফর ইউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সর্দার প্যাটেলের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শাহ। সেই সঙ্গে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করেন, কংগ্রেস দল অতীতে ধারাবাহিকভাবে সর্দার সাহেবকে বিস্মৃতির অতলে ঠেলে দেওয়ার এবং তাঁর অবদানকে লঘু করার অপচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। তবে কোটি কোটি দেশবাসীর হৃদয় থেকে তাঁর সূর্যের মতো দীপ্ত ব্যক্তিত্বকে যে কোনোদিন মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তা এদিন স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আজ দেশের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী তথা ‘লৌহপুরুষ’-এর ১৫১তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটিকে দেশজুড়ে ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’ (National Unity Day) হিসেবে পালন করা হচ্ছে। নয়াদিল্লির জনবহুল রাজপথ ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার দেশবাসীকে উদ্দীপ্ত করে অমিত শাহ বলেন, ‘‘দীর্ঘ বছর ধরে ভারত সর্দার প্যাটেলকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয়নি। কংগ্রেস দল ধারাবাহিকভাবে সর্দার সাহেবকে কোণঠাসা ও ভুলে যাওয়ার চক্রান্ত করেছে। কিন্তু তাঁর মতো এক দীপ্তিময় ব্যক্তিত্বকে এই জাতির মন থেকে কখনও মুছে ফেলা যায় না।’’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সর্দার প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখনই তিনি সর্দার প্যাটেলের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি ‘স্ট্যাচ্যু অব ইউনিটি’ (Statue of Unity) নির্মাণ করেছিলেন। এই বিশাল স্থাপত্যের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি কোণায় সর্দারজির সুমহান অবদান ও তাঁর ইস্পাতকঠিন ব্যক্তিত্বকে পৌঁছে দিয়েছেন।
সর্দার প্যাটেলের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও অখণ্ড ভারতের রূপকার হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাত্র ১,২১৮ দিনের অবিশ্বাস্য ও কঠিন সময়ের মধ্যে গোটা দেশকে একটি অখণ্ড ভারতের মানচিত্রে বেঁধে ফেলেছিলেন তিনি।
শাহের কথায়, ‘‘এমনকি বহু নেতা একসঙ্গে মিলে সারাজীবনে যা করতে পারেননি, সর্দার প্যাটেল তা মাত্র ১,২১৮ দিনে করে দেখিয়েছিলেন। তৈরি করেছিলেন একটি অখণ্ড ভারত। সর্দারের সেই স্বপ্নের ভারত আজ সারা বিশ্বের সামনে অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।’’
এদিনের মঞ্চ থেকে কেবল ইতিহাস স্মরণ করাই নয়, নরেন্দ্র মোদী সরকারের একাধিক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন অমিত শাহ। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে তিনি এক বিরাট বার্তা দেন।
২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতকে পুরোপুরি ‘নেশা মুক্ত’ (Drug-Free) করে তোলার জনআন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই দেশ নকশালপন্থা নির্মূলের পথে বহু দূর এগিয়ে গেছে। আজ সর্দারজির জন্মবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে যে, আগামী ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই দেশকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে হবে।
নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে গৃহীত একাধিক যুগান্তকারী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে দেশের সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত করতে ধারা ৩৭০ (Article 370) বিলোপের মতো ঐতিহাসিক সাহসী পদক্ষেপ এই সরকারই নিয়েছে। দেশকে উন্নত ও আত্মনির্ভর করে তুলতে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat)-এর যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন, তার প্রথম এবং অপরিহার্য সোপান হল একটি ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ে তোলা। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা এবং এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলার সংকল্প নিয়েই এদিনের ‘একতা দিবস’ এক ঐতিহাসিক মাত্রা পেল।
Leave a comment