ঠাকুরনগর: প্রথমবার মতুয়া মহাতীর্থ ঠাকুরনগরে পা রেখেই কার্যত ‘কল্পতরু’ অবতারে আত্মপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার গোঁসাই আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে মতুয়া সমাজের কল্যাণে একগুচ্ছ মেগা ঘোষণা করলেন তিনি। মতুয়া ধামে নতুন সুবিশাল মন্দির নির্মাণ থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বারুণী মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়া এবং ঠাকুরনগরে সম্পূর্ণ নতুন ও পৃথক পুরসভা গঠন— সমস্ত দায়িত্ব একছত্রভাবে নিজের কাঁধে তুলে নিল রাজ্য সরকার। একই সাথে সিএএ (CAA)-র মাধ্যমে মতুয়াদের নাগরিকে পরিণত করার পাশাপাশি ঠাকুরনগরের দীর্ঘ ও পবিত্র ঐতিহ্য রক্ষা করার দৃঢ় অঙ্গীকারও শোনা গেল তাঁর মুখে। মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক চমকপ্রদ ঘোষণায় উপস্থিত সমবেত জনতা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
রবিবার সকালে ঠাকুরবাড়ির ঠিক সামনেই অবস্থিত মতুয়াদের পরম পবিত্র শ্বেতমন্দিরে পৌঁছে প্রথমেই নিষ্ঠা ভরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর সম্মেলন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বনগাঁর সাংসদ তথা মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে হওয়া আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভাই শান্তনুকে বললাম, এই মন্দিরটা তো আরও বড় ও রূপময় করতে হবে। ও বলল, জমি তো রয়েছে, তবে সাধ থাকলেও সাধ্য কোথায়? এটা শোনার পর আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আজ প্রকাশ্যে বলে যাচ্ছি, মতুয়া মহাতীর্থে সুবিশাল নতুন মন্দির তৈরি হবে। তীর্থক্ষেত্রের নিজস্ব ট্রাস্টের অর্থেই সব কাজ এগোবে। মন্দির নির্মাণের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত হলে এর ভূমিপুজোয় আমি নিজে আসব, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও আসবেন।”
আরও পড়ুন: এবার সোনারপুর! মাঝরাতে স্বামীকে বাইরে বার করে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগhttps://hiddenstories.news/2026/11/01/sonarpur-gang-rape-news-husband-forced-out-baruipur-incident-2026/
এর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা নিয়েও রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বারুণী মেলা আয়োজনের জন্য আর কাউকে হাই কোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে হবে না। এই মেলার প্রসারে সবরকম বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলায় যেমন পুষ্পবৃষ্টি ও বিশেষ আয়োজন হয়, ঠিক সেই তরে বারুণী মেলাকেও ধীরে ধীরে জাতীয় মেলার স্তরে উন্নীত করা হবে।”
এ ছাড়াও ঠাকুরনগর এলাকার সামগ্রিক নগরোন্নয়ন নিশ্চিত করতে সেখানে একটি পৃথক পুরসভা গড়ার কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে এই পুরসভা তৈরির জন্য পৃথক অর্থ বরাদ্দ করা হবে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শাসনকালে মতুয়াদের ওপর হওয়া অবিচারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগের জমানার মতো অত্যাচার আর এখানে বরদাস্ত করা হবে না। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষ যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধে পান, তা ব্যক্তিগত ভাবে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেকে জনগণের ‘সেবক’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
Leave a comment