হ্যামিলটন: পাঁচ ম্যাচের সিরিজ আগেই জিতে গিয়েছিল ভারত। কিন্তু শেষ দুটি টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে হতশ্রী শ্রেয়স আইয়ার অ্যান্ড কোম্পানির অবস্থা। রবিবার, হ্যামিলটনের সেডন পার্কে সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টিম সেইফার্ট ও রেকর্ড ভাঙা গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ভারত।
১৯২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল, আর তা-ও আবার ১২ বল বাকি থাকতেই। এর ফলে ভারত শেষ দুটি ম্যাচ হারলেও, প্রথম তিন ম্যাচ জেতার সুবাদে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ পকেটেই পুরল। তবে রবিবাসরীয় হ্যামিলটনে বড় ব্যবধানে এই হার এবং দলের অনুজ্জ্বল ফিল্ডিং নিয়ে ম্যাচ শেষে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার।
এ দিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঈশান কিষাণ (৬১) ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের (৫০) দায়িত্বশীল অর্ধশতরানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৯১ রান তোলে ভারত। শুরুর দিকে অভিষেক শর্মা (১) ও সঞ্জু স্যামসন (৪) দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলেও, তৃতীয় উইকেটে ঈশান ও শ্রেয়সের ৯৩ রানের জুটি ভারতকে বড় রানের ভিত গড়ে দেয়।
আরও পড়ুন: সেডন পার্কে কিষাণ-ধামাকা! নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাণ্ডব, ২ হাজারি ক্লাবে ঈশান
কিন্তু মাঝের ওভারগুলিতে মিলনে (১৯ রানে ৪ উইকেট) এবং নাথান স্মিথদের আঁটোসাটো বোলিংয়ের সামনে খেই হারিয়ে ফেলেন পরবর্তী ব্যাটাররা। ব্যাক-টু-ব্যাক উইকেট পতনের কারণে শেষ পর্যন্ত ২০০ রানের গণ্ডি টপকাতে ব্যর্থ হয় ‘মেন ইন ব্লু’।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফিন অ্যালেনকে (২) হারালেও কিউই শিবিরে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি। টিম সেইফার্টের অনবদ্য ৯৩ এবং গ্লেন ফিলিপসের অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংস খেলার গতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেয়।
সেইফার্ট সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেও, অসাধারণ একটি ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। অন্যদিকে, পুরো সিরিজে স্বপ্নের ফর্মে থাকা গ্লেন ফিলিপস এই ম্যাচেও বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন। চলতি পাঁচ ম্যাচের সিরিজে মোট ৩৪১ রান সংগ্রহ করে তিনি ফিল সল্টকে (৩৩১ রান) পিছনে ফেলে এক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সর্বাধিক রান করার বিশ্বরেকর্ড নিজের নামের পাশে লিখে নেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী ও নীতীশ রেড্ডি একটি করে উইকেট পেলেও কিউই জুটিকে আটকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়, ঠিক সিদ্ধান্তেই বিশ্বাসী গৌতম!
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দলের এই পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তিনি স্বীকার করেন যে, ঈশান এবং তাঁর জুটির পর মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে গিয়েছিল।
শ্রেয়স বলেন, “ইশান আর আমি দারুণ একটা মোমেন্টাম তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তারপর পরপর উইকেট হারানোর ফলে নতুন ব্যাটারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পিচও ব্যাটিংয়ের জন্য খুব সহজ ছিল না, বিশেষ করে বল স্কিড করছিল এবং সিম করছিল। তবে ১৯১ রান যথেষ্ট লড়াই করার মতো স্কোরই ছিল।”
তবে দলের হারের পেছনে খারাপ ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের দুর্বলতাকেই বড় করে দেখেছেন ভারত অধিনায়ক। ফিল্ডিংয়ের সময় সহজ ক্যাচ মিস হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের বোলিং এবং ফিল্ডিং আরও অনেক ভালো হতে পারত। আমরা আজ বেশ কিছু জায়গায় ছন্নছাড়া ও দুর্বল ছিলাম। বিশেষ করে ফিল্ডিং এমন একটি জায়গা, যেখানে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে এবং উন্নতি ঘটাতে হবে।”
তবে সামগ্রিকভাবে এই সফরকে একটি দুর্দান্ত শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন শ্রেয়স। তিনি জানান, সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর শেষ দুটি ম্যাচে দল নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিল, যা ভবিষ্যতে তরুণ দলটিকে আরও পরিপক্ব করে তুলতে সাহায্য করবে।
Leave a comment