কলকাতা: অর্ণবের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই বঙ্গোপসাগরে ফের দানা বেঁধেছে নতুন আতঙ্ক! এবার অতি তীব্র আকার ধারণ করে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে সজোরে ধেয়ে আসছে দানবীয় ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার মাঝরাতেই উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই বিধ্বংসী ঝড়। অর্ণবের পর পর পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের একই অভিমুখ হওয়ায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে অন্ধ্র উপকূলে। সমুদ্র ইতিমধ্যেই ভয়ঙ্কর উত্তাল রূপ নিয়েছে, আর দ্রুত দূরত্ব কমিয়ে চেন্নাই ও অন্ধ্রের দিকে এগিয়ে চলেছে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থানরত এই ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতিবেগে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে ধেয়ে চলেছে। সোমবার ভোরেই তা চেন্নাই থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার এবং অন্ধ্রের নেল্লোর থেকে ২১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি বাড়িয়ে সোমবার গভীর রাতে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে ল্যান্ডফল করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের সর্ব্বোচ্চ বেগ পৌঁছাতে পারে ১২০ কিলোমিটারে! আছড়ে পড়ার এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: মহাকরণের পিছনে মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ভস্মীভূত একাধিক অফিস, নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্র নাকি দুর্ঘটনা? https://hiddenstories.news/2026/11/02/massive-blaze-behind-mahakaran-midnight-fire-burns-multiple-offices-to-ashes/
তবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু উপকূলে চরম সতর্কতা জারি করা হলেও, পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য স্বস্তির খবর শুনিয়েছে হাওয়া অফিস। এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি কোনো মারাত্মক প্রভাব বাংলায় পড়বে না। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প সরতে শুরু করায় এ রাজ্যের আবহাওয়া ধীরে ধীরে শুকনো হতে শুরু করবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, বুধবার থেকে রাজ্যজুড়ে পরিষ্কার ও শুষ্ক আকাশ থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে, যার ফলে শীতের হালকা আমেজ আরও স্পষ্ট হবে।
Leave a comment