কলকাতা: তেলের দর ও গাড়ির যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় চরম ধুঁকছে রাজ্যের বেসরকারি গণপরিবহণ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিত্যযাত্রীদের পকেটে বড়সড় কোপ বসিয়ে অবিলম্বে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া একলাফে বাড়ানোর জোরালো দাবি জানালেন মালিক পক্ষ। সোমবার রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহকে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দিয়েছে ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস’। কলকাতায় সাধারণ বাসে চড়লেই অর্থাৎ প্রথম ৪ কিলোমিটারের জন্য ন্যূনতম ভাড়া ১৮ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে সরকারিভাবে ভাড়া না বাড়ায় পুরো শিল্পটাই কার্যত ‘কোমা’য় চলে গিয়েছে বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাস মালিকরা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা এই নতুন প্রস্তাবপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, করোনা মহামারী এবং জ্বালানি তেলের বেলাগাম দামের পর বাস চালানো মারাত্মক দায় হয়ে পড়েছে। চিঠিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর পরিবহণ দফতরে জমা দেওয়া স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে দুর্গাপুজোর পর ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন মন্ত্রী। প্রস্তাবিত ভাড়ার কাঠামোয় শহরে ৪ থেকে ৬ কিলোমিটারে ২০ টাকা এবং পরবর্তী দূরত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, জেলার সাধারণ বাসে প্রথম ৪ কিলোমিটারে ২০ টাকা, এক্সপ্রেস বাসে ২৫ টাকা, সাধারণ এসি বাসে ৪০ টাকা এবং বিলাসবহুল ভলভো বাসে প্রথম ২ কিলোমিটারের জন্য ৫০ টাকা ভাড়ার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
বাসমালিকদের যুক্তি, বছরে গড়ে মাত্র ২৭০ দিন বাস চালানো সম্ভব হয়, অথচ প্রতিদিনের তেলের খরচ, চালক-সংবাহকদের বেতন ও কেসের জরিমানার পাশাপাশি ইএমআই, রোড ট্যাক্স এবং বার্ষিক ফিটনেস সার্টিফিকেটের বিপুল বোঝা বইতে হচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। সরকারের তরফ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও, পরিবহণ দফতরের এক অংশের দাবি, বহু রুটেই মালিকেরা নিজেদের মতো করে ইতিমধ্যেই ন্যূনতম ১৫ থেকে ১৮ টাকা ভাড়া আদায় করছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুজোর পর আলোচনায় বসার কথা আগেই জানিয়েছিলেন পরিবহণমন্ত্রী, তাই লক্ষ্মীপুজোর কাটতেই জমা পড়া এই প্রস্তাবে এখন সিলমোহর পড়ে কি না, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।
Leave a comment