মিয়ামি: ফের একবার খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অলৌকিক কামব্যাক।
আর সেই অবিশ্বাস্য জয়ের রূপকার আর কেউ নন, স্বয়ং লিওনেল মেসি। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে এক অনবদ্য অ্যাসিস্ট এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তিন ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে চোখধাঁধানো গোল। আর্জেন্টিনার প্রাক্তন মহাতারকার এই দ্বৈত জাদুতে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনকে ২-১ ব্যবধানে হারাল ইন্টার মায়ামি। প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও এই মহাকাব্যিক জয়ের সৌজন্যে আগামী মরসুমের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল তারা।
সেই সঙ্গেই আসন্ন এমএলএস কাপ প্লে-অফের আগে ইস্টার্ন কনফারেন্সের দুই নম্বর সিড হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল মায়ামি। এই নিয়ে চলতি মরশুমে মেসির ঝুলিতে ঢুকে গেল ২৬টি গোল এবং ১৬টি দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট। যা তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তৃতীয়বার এমএলএস মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি) খেতাব এবং টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য লড়াইটা ছিল সমানে সমানে। ঘরের মাঠে নিউ ইংল্যান্ডের ডিফেন্স মায়ামির আক্রমণভাগকে রুখে দেওয়ার জন্য কড়া পাহারা বসিয়েছিল। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে উভয় পক্ষই একাধিক সুযোগ পেলেও গোলমুখ খুলতে পারেনি। মায়ামির পক্ষে সবথেকে সুবর্ণ সুযোগটি এসেছিল ২৮ মিনিটে। বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে মেক্সিকান তারকা বারতেরামের নেওয়া জোরালো বাঁ পায়ের শট চমৎকার দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাট টার্নার। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ০-০ ব্যবধানেই।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি হঠাৎই নতুন মোড় নেয়। ৫৩ মিনিটে ঘরের মাঠের দর্শককে স্তব্ধতায় ভাসিয়ে চমক দেয় নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন। দানিয়েল গাজদাগের এক দুর্দান্ত গোল স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এক গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পরেই জেগে ওঠে মায়ামি। আক্রমণে একের পর এক ধার বাড়াতে থাকেন মেসি ও সুয়ারেজ জুটি।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়, ঠিক সিদ্ধান্তেই বিশ্বাসী গৌতম!
সমতা ফেরাতে মায়ামির লেগেছিল ঠিক ১৬ মিনিট। ৬৯ মিনিটে এক অনবদ্য দলগত ফুটবলের প্রদর্শনীতে গোল শোধ করে মায়ামি। প্রতিপক্ষের বক্সে সেগোভিয়ার ভাসানো পাস অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে হেডে ব্যাক-পাস করেন লিওনেল মেসি।
সেখানে আগেই প্রস্তুত থাকা বারতেরাম হেড করে বলটি জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলের মাধ্যমে মরসুমের ১০ নম্বর গোলটি পূর্ণ করলেন বারতেরাম, আর তার নেপথ্যে অনুঘটকের কাজ করে নিজের ১৬তম অ্যাসিস্টটি লিখে নেন লিও।
সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্টার মায়ামি। আর ৮৩ মিনিটে রচিত হয় সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। লুইস সুয়ারেজ মাঝমাঠের কিছুটা ওপর থেকে বল বাড়ান বক্সে থাকা মেসির দিকে। এরপরই শুরু হয় ‘লিও-ম্যাজিক’।
প্রতিপক্ষের তিন-তিনজন ডিফেন্ডারকে পায়ের নিখুঁত ছোঁয়ায় ও একক দক্ষতায় পরাস্ত করেন এলএম ১০। এর পর সেগোভিয়ার সঙ্গে চমৎকার পাসিং সিকোয়েন্স খেলে নিউ ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে কার্যত তছনছ করে বক্সে ঢুকে পড়েন এবং বাঁ পায়ের নিখুঁত গ্রাউন্ডেড শটে বল পাঠিয়ে দেন গোলপোস্টের ডান দিকের একদম নিচু কোণে!
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত এই ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি। প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স কাপের টিকিট পাকা করার পাশাপাশি নিজের গোলের সংখ্যা ২৬-এ নিয়ে গিয়ে এমএলএস গোল্ডেন বুটের দৌড়ে প্রতিপক্ষকে অনেকটা পেছনে ফেলে দিলেন মায়ামির ১০ নম্বর জার্সিধারী ক্যাপ্টেন।
Leave a comment