মুম্বই: শেয়ার বাজারে যেন এক লহমায় বদলে গেল ছবিটা!
বিশ্ব বাজারের বিশ্বব্যাপী এআই-কেন্দ্রিক শেয়ারের টানা পতন এবং অস্থিরতার আবহ কাটিয়ে মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে দেখা গেল রেকর্ড উত্থান। ভারতীয় সংস্থাগুলির দুর্দান্ত ত্রৈমাসিক আয়ের পরিসংখ্যান এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর আস্থা রেখে দিনভর চলল দেদার কেনাকাটা। টানা চারদিন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মঙ্গলবার সেনসেক্স এক ধাক্কায় বেড়ে গেল ১২০০ পয়েন্টেরও বেশি! অন্যদিকে, পয়েন্টের খরা কাটিয়ে ৩৭০ পয়েন্টের লম্বা লাফ দিয়ে নিফটিও ফিরে পেল ২৩,৮০০-এর শিখর। শেয়ার বাজারের এই হঠাৎ চাঙ্গা মেজাজে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর লক্ষ্মীলাভের মুখ দেখেছে দালাল স্ট্রিট।
সূচকের লম্বা লাফ ও বাজারের গতিপ্রকৃতি
মঙ্গলবার লেনদেন শেষে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) প্রধান সূচক সেনসেক্স ১২২৫.০৭ পয়েন্ট বা ১.৬২ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয় ৭৬,৯১৭.৮৫ পয়েন্টে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি সূচক ৩৭০.০৫ পয়েন্ট বা ১.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দিনের শেষে দাঁড়ায় ২৩,৮১০.৮৫ পয়েন্টে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেকশনের পর শেয়ার বাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে নিফটি ২৩,৮০০ থেকে ২৩,৯০০ পয়েন্টের মধ্যে সাময়িক কিছু প্রতিরোধের (Resistance) মুখে পড়তে পারে। আবার বাজারে কোনো কারণে পতন ঘটলে ২৩,২০০ থেকে ২৩,৫০০ পয়েন্টের মধ্যে তাৎক্ষণিক সাপোর্ট মিলবে বলে মনে করছেন বাজার টেকনিক্যাল বিশ্লেষকেরা।
ফ্রন্টলাইন সূচকের পাশাপাশি ব্রডার মার্কেট বা মাঝারি ও ছোট মূলধনী সংস্থাগুলির শেয়ারেও সবুজ সঙ্কেত দেখা গিয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক ১.০৬ শতাংশ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক ০.৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে লেনদেন শেষ করেছে।
এফএমসিজি-র দাপটে বাজার মাত, পিছিয়ে পিএসইউ ব্যাংক
এদিনের শেয়ার বাজারের এই রেকর্ড উত্থানের পেছনে মূল অনুঘটক ছিল এফএমসিজি (Fast-Moving Consumer Goods) বা ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির দারুণ পারফরম্যান্স। নিফটি এফএমসিজি সূচক একাই প্রায় ৩ শতাংশ লাফ দিয়েছে। আয়ের দারুণ সম্ভাবনা ও বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিতে বিএসই, নেসলে ইন্ডিয়া এবং টাটা কনজিউমার প্রডাক্টসের মতো শেয়ারে দেদার কেনাকাটা দেখা যায়, যা এদিনের বাজারে সবচেয়ে বেশি লাভজনক শেয়ারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
তবে সামগ্রিক বাজার চাঙ্গা থাকলেও কিছুটা বিপরীত মেরুতে হেঁটেছে নিফটি পিএসইউ ব্যাংক সূচক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির শেয়ারে কিছুটা বিক্রির চাপ থাকায় এই ক্ষেত্রটি দিনের অন্যতম দুর্বল সেক্টর হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
টাকার মূল্য বৃদ্ধি ও বিশ্ব বাজারের প্রভাব
শেয়ার বাজারের সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি ফিরেছে ভারতীয় রুপির মূল্যেও। অপরিশোধিত তেলসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় ভারতের আমদানি বিল কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে রুপি মার্কিন ডলারের তুলনায় ০.১৫ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে ৯৪.৭৪-এ কেনাবেচা হয়েছে। আগামী দিনে বিশ্ববাজারে ডলারের গতিপথ এবং বিদেশি মূলধন আসার ওপর রূপির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বিশ্ব বাজারে এআই এবং টেকনোলজি নির্ভর শেয়ারগুলির দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন ভারতের মতো ঐতিহ্যবাহী ও নির্ভরযোগ্য বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। দেশীয় অর্থনীতি ও কর্পোরেট ফলাফল সেই আস্থায় ঘৃতাহুতি ঢালায় দালাল স্ট্রিটে এখন শুধুই খুশির হাওয়া।
Leave a comment