কলকাতা: দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের যৌথ সমাবেশকে কেন্দ্র করে এবার জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় তীব্র আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার কলকাতায় এসে প্রথমে ভাঙা বাংলায় এবং পরবর্তীতে হিন্দিতে দেওয়া বিস্ফোরক বক্তব্যে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের যৌথ মঞ্চকে একহাত নিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে স্মৃতি দাবি করেন, “বাংলা লুট করার পর এ বার দিল্লিতে হাত বাড়াতে চাইছে রাজনৈতিক সুযোগ সন্ধানীরা।”
দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে বিজেপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির সাংবাদিক বৈঠকে স্মৃতির সোজা অভিযোগ, বিরোধী দলগুলি আসলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছ।
এসআইআর (SIR) নিয়ে অপপ্রচারের পাল্টা পরিসংখ্যান
রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এসআইআর (SIR) নিয়ে বিরোধীরা টানা মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন স্মৃতি ইরানি। তথ্য ও পরিসংখ্যানের খতিয়ান পেশ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৫২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে মোট ১২ বার এসআইআর হয়েছে, যার মধ্যে ১০টিই হয়েছে কংগ্রেস জমানায়!
এবার ১৩ কোটি ভোটারের তথ্য সংশোধনের বিষয়টিকে নিয়ে বিরোধীদের তৈরি করা ধোঁয়াশাকে ভিত্তিহীন দাবি করে স্মৃতি বলেন, খসড়া অনুযায়ী বাদ যাওয়া তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩ কোটি মৃত ভোটার, ১ কোটি ডুপ্লিকেট বা নকল ভোটার, ৩ কোটি অনুপস্থিত এবং প্রায় ৬ কোটি স্থানান্তরিত হওয়া ভোটারের নাম। স্মৃতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “বিরোধীদের সারা দেশে যেখানে ২০ লক্ষের বেশি বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) রয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে মৃত ও নকল নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তাদের এত আপত্তি কিসের?”
“বাংলায় গণতন্ত্র পদদলিত, সেই শক্তির সঙ্গেই হাত মিলাচ্ছে কংগ্রেস”
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিলেও স্মৃতি অভিযোগ করেন, জোটের এক শীর্ষ নেত্রীর অসাবধানতাবশত করা মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তাদের আসল মানসিকতা। স্মৃতি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক শক্তি দিনের পর দিন গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছে, নারীদের ওপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছে, আজ ক্ষমতার লোভে সেই শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েই রামলীলা ময়দানে মঞ্চ ভাগ করে নিচ্ছে কংগ্রেস!”
নির্বাচন কমিশন, দেশের সুপ্রিম কোর্ট এবং সংসদ ভবনের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর অনবরত অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করার জন্য বিরোধীদের কড়া ভাষায় ধিক্কার জানান এই বিজেপি নেত্রী।
‘যুবরাজ’-কে তোপ ও পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব অর্থাৎ রাহুল গান্ধীকে ‘যুবরাজ’ বলে কটাক্ষ করে স্মৃতি বলেন, “যিনি একসময় ভারতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার হুঙ্কার দিয়েছিলেন, আজ দেশের ৯০ কোটি ভোটারের দেওয়া গণতান্ত্রিক রায়কে তিনি অবৈধ বলছেন।” একইসঙ্গে রামলীলা ময়দানের সমাবেশ চলাকালীন কর্তব্যরত ১১৮ জন পুলিশকর্মীর ওপর যে হিংসাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাকেও কড়া ভাষায় নিন্দা জানান স্মৃতি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে কংগ্রেসের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে স্মৃতি ইরানি সাফ জানান, দুর্বল ও চরম দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বের মাশুল গুনতেই বিগত চার-পাঁচ দশকে তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো দেশের একাধিক বড় বড় রাজ্য থেকে কংগ্রেসের নাম নিশানা সম্পূর্ণ মুছে গিয়েছে।
Leave a comment