কলকাতা: ছটপুজোয় রবীন্দ্র সরোবর ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। জাতীয় সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার প্রাথমিক ভাবনায় আইনি ও পরিবেশগত বাধা চলে আসায় শেষ পর্যন্ত বিকল্পের পথেই হাঁটছে প্রশাসন। জাতীয় গ্রিন ট্রাইবুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা মাথায় রেখে রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরের বদল হিসেবে দক্ষিণ কলকাতায় বিকল্প ৫০টি জলাশয় তৈরি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সম্প্রতি কলকাতার রাস্তা সৌন্দর্যায়নের গাঢ় রং নিয়ে বিতর্ক এবং দুর্ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পিছু হটতে হয়েছিল পুরমন্ত্রীকে। আর এবার ছটপুজো ঘিরেও তৈরি হলো একই প্রেক্ষাপট। এর আগে গঙ্গার ঘাট পরিদর্শন শেষে পুরমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনীতি করে হিন্দুদের উৎসবে বাধা দেওয়া হতো, তবে এবার রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু এই মন্তব্যের পরই সরব হন পরিবেশবিদ ও আইনজীবীরা। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত, মোহিত রায় ও সোমেন্দ্রমোহন ঘোষরা জাতীয় গ্রিন ট্রাইবুনালের স্পষ্ট আদেশের কথা উল্লেখ করে কেএমডিএ-র কাছে ছটপুজো বন্ধের আর্জি জানান।
পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বুঝে এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের কথা মাথায় রেখে পরিবেশ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে না যাওয়ার পথ বেছে নেয় পুরদফতর। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, “গ্রিন ট্রাইবুনাল থেকে অনুমতি না পেলে তো আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থা।” কেএমডিএ-এর ইঞ্জিনিয়াররাও নবান্ন ও পুরমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন, যেখানে পাটুলি, নোনাডাঙা, যোধপুর পার্ক ও পোদ্দারনগরের মতো এলাকায় কৃত্রিম ঘাট তৈরির বিশদ প্রস্তাব রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের আদেশের পর থেকেই রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এমনকি ২০২০ সালে বিগত সরকারের আমলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েও ধাক্কা খেতে হয়েছিল। ফলে দক্ষিণ কলকাতার এই প্রধান ফুসফুসকে দূষণমুক্ত রাখতেই এবার ৫০টি সুসজ্জিত বিকল্প জলাশয়ে ছটপুজোর আয়োজন নিশ্চিত করছে রাজ্য প্রশাসন।
Leave a comment