নয়া দিল্লি: আজ ২৬ জুলাই, ভারতের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন। মাতৃভূমির অখণ্ডতা রক্ষা করতে গিয়ে যে বীর জওয়ানরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, কারগিল বিজয় দিবসে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত গোটা দেশ। রবিবার এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক্স হ্যান্ডেলে আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে শহিদ সেনাসদস্যদের প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জওয়ানদের অসামান্য সাহসিকতার প্রশংসা করে লিখেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনার অসীম বীরত্ব চিরকাল দেশের গর্বের উৎস হয়ে থাকবে। তাঁদের অটল দেশপ্রেম ও কর্তব্যবোধ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও তাঁর বার্তায় জানান, জওয়ানদের অতুলনীয় বীরত্ব, অবিচল সংকল্প ও দেশপ্রেম ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন।
১৯৯৯ সালের শুরুতেই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল। দিল্লি থেকে লাহোর পর্যন্ত শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক ‘সদা-এ-সরহদ’ বাস পরিষেবা। শান্তির বার্তা নিয়ে বাসে চেপে লাহোরে পা রেখেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। কিন্তু পর্দার আড়ালে তখন তৈরি হচ্ছিল অন্য চিত্রনাট্য। উচ্চাকাঙ্ক্ষী পাক সেনাপ্রধান পারভেজ মুশারফ ভারতের চোখ এড়িয়ে নিঃশব্দে লাদাখের কারগিল দখল করার নীল নকশা তৈরি করছিলেন, যা সমস্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে এক নিমেষে ভেস্তে দেয়।
১৯৯৯ সালের ১৩ মে থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত, টানা দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে হিমালয়ের দুর্গম মাইনাস ডিগ্রির আবহাওয়ায় চলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত। অবশেষে ২৬ জুলাই ভারতীয় সেনার বিক্রম ও অদম্য জেদের সামনে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। পাক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধে তাদের ৪০০ জন সেনা নিহত ও ৬৬৫ জন আহত হন। অন্যদিকে, দেশের সীমান্ত রক্ষা করতে গিয়ে ভারতের ৫২৭ জন বীর সন্তান শহিদ হন এবং ১,৩৬৩ জন আহত হন। বীর জওয়ানদের সেই আত্মত্যাগ ও বীরত্বের গাথা আজও প্রতিটি ভারতবাসীর রক্তে গর্বের শিহরণ জাগায়।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন