কলকাতা: শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ডমরুর গমগম আওয়াজে কার্যত কাঁপল যাদবপুরের রাজপথ। বুধবার দুপুরে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। হাজারো সাধু-সন্তর হাতে গেরুয়া পতাকা, কপালে তিলক আর দফায় দফায় 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল গোটা এলাকা। 'গেরুয়ার সম্মান যাত্রা' নামে এই বিশাল আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক পদযাত্রায় খোদ নেতৃত্ব দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হিন্দু সনাতন সংস্কৃতি ও স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শকে সামনে রেখে চলা এই মহামিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে পা মেলান পরিবহণ মন্ত্রী তাপস রায়, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় এবং পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ-সহ রাজ্যের বিশিষ্ট সন্ন্যাসীরা।
প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদযাত্রা যাদবপুর এইট বি মোড়ে পৌঁছতেই পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে 'বন্দে মাতরম' ধ্বনিতে। মিছিল শেষে মঞ্চে উঠেই বামপন্থার আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত যাদবপুরের মাটি থেকেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক কামান দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, গেরুয়ার কোনও অপমান বরদাস্ত করা হবে না। যাদবপুর থেকে তথাকথিত 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' আর 'রেড স্যালুট'-এর সংস্কৃতি কী ভাবে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হয়, তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ভালো করেই জানে। স্বামী বিবেকানন্দ ও ঋষি অরবিন্দের এই পুণ্যভূমিতে উগ্র আদর্শের কোনও স্থান নেই বলেও তিনি কড়া বার্তা দেন।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যে তিন দিন ব্যাপী মহাবেদ পাঠের আসর বসতে চলেছে। সেখানে সাধারণ মানুষকে সামিল হওয়ার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সাফ জানান, যাদবপুরে তিনি এখানেই থামছেন না। সনাতন ও গেরুয়াকে যারা অপমান করেছে তাদের জবাব দিতে তিনি ফের যাদবপুরে আসবেন—একবার প্রকাশ্য গীতা পাঠ করতে এবং আরেকবার হনুমান চালিশা পাঠের আসর বসাতে। যারা সেন্টার অফ এক্সিল্যান্সের অপব্যবহার করে দেশবিরোধী স্লোগান তোলে, তাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গর্জে ওঠেন, এই মাটি স্বামী বিবেকানন্দের, আর এখানে গেরুয়ার সম্মান চিরকাল অটুট থাকবে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন