কাঠমান্ডু: গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতোই চরমতম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে চলেছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। বুধবারের বিধ্বংসী প্লাবনের ধাক্কা ও ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর শোক সামলে ওঠার আগেই শুক্রবার আরও এক নতুন ধ্বংসলীলার আশঙ্কায় কাঁপছে দেশটি। শুক্রবার সকালে চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিব্বতের কাছে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার চরম দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। এই ঘটনার পরেই উত্তর নেপালে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে, কারণ অনুমান করা হচ্ছে আগামী আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রবল গতিতে ধেয়ে আসা হড়পা বানে প্লাবিত হতে চলেছে রাসুয়া ও ধাদিং সহ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আপাতত সমস্ত উদ্ধারকাজ পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইউএসজিএস (USGS) এবং চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের রিপোর্ট অনুসারে, ভারতীয় সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান এলাকায় ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে এই ৫.১ মাত্রার কম্পনটি আঘাত হানে। যদিও ভূমিকম্পের সঙ্গে বাঁধ ভাঙার প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট হিমবাহ হ্রদ ভেঙে প্লাবনের যে আগাম সতর্কবার্তা চিন দিয়েছিল, তা এবার সময়ের আগেই বাস্তব রূপ নিল। ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনায় তৈরি হওয়া ওই হ্রদে বিপুল জলরাশি জমে এমনিতেই তা উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই আশঙ্কাই সত্যি করে বাঁধ ভাঙার পর নেপালের রাসুয়া এবং ধাদিং জেলায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা, কারণ তিব্বত থেকে নেমে আসা বিপুল জলের তোড়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন