কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে। কংগ্রেস নেত্রীর এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র তথা বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
রবিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময়ে সোনিয়া গান্ধী যেভাবে আপত্তি, বিরক্তি ও বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন, তা প্রকাশ্যে আসা ভিডিওর মাধ্যমে গোটা দেশ প্রত্যক্ষ করেছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’ ছিল দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঞ্জীবনী মন্ত্র এবং সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টিকে অপমান করার অর্থ হলো দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ ও খোদ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রকেই অপমান করা। তিনি স্পষ্ট জানান, ভিডিওর স্পষ্ট দৃশ্য থাকার পরও কংগ্রেসের পক্ষে এই সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনো পথ নেই।
শনিবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণী যখন ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করছেন, ঠিক তখনই সোনিয়া গান্ধী এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেন যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি গানটি বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন; পরবর্তীতে রাহুল গান্ধীকেও একই ধরনের নির্দেশমূলক অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। দৃশ্যটি ভাইরাল হতেই জাতীয় স্তোত্রকে অসম্মানের অভিযোগে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই আবহে নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠির প্রতিলিপি সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিন্দা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন