Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

আচমকা পদত্যাগপত্র পাঠালেন গৌতম দেব, মেয়রের ইস্তফায় শিলিগুড়ি পুরবোর্ডে তীব্র কম্পন!

আচমকা পদত্যাগপত্র পাঠালেন গৌতম দেব, মেয়রের ইস্তফায় শিলিগুড়ি পুরবোর্ডে তীব্র কম্পন!
শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গৌতম দেব। ছবি-সংগৃহীত

শিলিগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলানোর আগেই ফের বড়সড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে রাজ্যের শাসক দল। এবার উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের 'শেষ দুর্গ' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি পুরনিগমও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুক্রবার সকালেই সবাইকে চমকে দিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা গৌতম দেব। তিনি ইতিমধ্যেই পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। গত বুধবারই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করার পর মনে করা হয়েছিল দলনেত্রী তাঁকে সংগঠনে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছেন। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মেয়রের এই আচমকা ইস্তফা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মেয়র পদের এই ইস্তফার নেপথ্যে যে পুরবোর্ডের অন্দরেই একটা চোরা সংঘাত চলছিল, তা বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন গৌতম দেব। সেই বৈঠকেই তিনি পদত্যাগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করলে দলের বাকি সদস্যরা কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে যান। যেহেতু শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ এখনও আরও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি রয়েছে, তাই অনেক মেয়র পারিষদই এখনই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বা ইস্তফা দেওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তবে সহকর্মীদের আপত্তিতেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নড়েননি গৌতম দেব এবং শুক্রবার সকালেই তিনি চূড়ান্ত পদক্ষেপটি গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষে নতুন কাউকে মেয়র করে ফের বোর্ড গঠন করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ফলে শিলিগুড়ি পুরনিগমের রাশও এবার জোড়াফুল শিবিরের হাত থেকে ফস্কে যেতে চলেছে।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের মাটিতে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে কোচবিহারে ঘাসফুল শিবিরের ঝুলিতে কার্যত কিছুই নেই। সিতাই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সঙ্গীতা বসুনিয়া জিতলেও, তিনি এবং দলের সাংসদরা বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি পুরনিগমই ছিল উত্তরে তৃণমূলের কামব্যাক করার একমাত্র সম্বল। ২০১১ সালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং ২০১৬ সালে পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো গৌতম দেব ২০২১-এর নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং ২০২৬-এর নির্বাচনে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে হেরে যান। মাঝে ২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই শিলিগুড়ি পুরনিগম জিতেছিল দল। এবার সেই শেষ আশার আলোটুকুও নিভে যাওয়ার মুখে এসে দাঁড়ানোয়, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বই বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে গেল।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : WestBengalPolitics TrinamoolCongress PoliticalCrisis HiddenStoriesNews SiliguriPolitics GautamDebResigns NorthBengalUpdate

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


আচমকা পদত্যাগপত্র পাঠালেন গৌতম দেব, মেয়রের ইস্তফায় শিলিগুড়ি পুরবোর্ডে তীব্র কম্পন!

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image
শিলিগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলানোর আগেই ফের বড়সড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে রাজ্যের শাসক দল। এবার উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের 'শেষ দুর্গ' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি পুরনিগমও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুক্রবার সকালেই সবাইকে চমকে দিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা গৌতম দেব। তিনি ইতিমধ্যেই পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। গত বুধবারই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করার পর মনে করা হয়েছিল দলনেত্রী তাঁকে সংগঠনে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছেন। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মেয়রের এই আচমকা ইস্তফা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।মেয়র পদের এই ইস্তফার নেপথ্যে যে পুরবোর্ডের অন্দরেই একটা চোরা সংঘাত চলছিল, তা বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন গৌতম দেব। সেই বৈঠকেই তিনি পদত্যাগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করলে দলের বাকি সদস্যরা কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে যান। যেহেতু শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ এখনও আরও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি রয়েছে, তাই অনেক মেয়র পারিষদই এখনই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বা ইস্তফা দেওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তবে সহকর্মীদের আপত্তিতেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নড়েননি গৌতম দেব এবং শুক্রবার সকালেই তিনি চূড়ান্ত পদক্ষেপটি গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষে নতুন কাউকে মেয়র করে ফের বোর্ড গঠন করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ফলে শিলিগুড়ি পুরনিগমের রাশও এবার জোড়াফুল শিবিরের হাত থেকে ফস্কে যেতে চলেছে।সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের মাটিতে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে কোচবিহারে ঘাসফুল শিবিরের ঝুলিতে কার্যত কিছুই নেই। সিতাই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সঙ্গীতা বসুনিয়া জিতলেও, তিনি এবং দলের সাংসদরা বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি পুরনিগমই ছিল উত্তরে তৃণমূলের কামব্যাক করার একমাত্র সম্বল। ২০১১ সালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং ২০১৬ সালে পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো গৌতম দেব ২০২১-এর নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং ২০২৬-এর নির্বাচনে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে হেরে যান। মাঝে ২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই শিলিগুড়ি পুরনিগম জিতেছিল দল। এবার সেই শেষ আশার আলোটুকুও নিভে যাওয়ার মুখে এসে দাঁড়ানোয়, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বই বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে গেল।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার