কলকাতা: আগামীকাল সোমবার বিধানসভায় ঐতিহাসিক প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। আর এই মেগা বাজেটকে ঘিরে যখন আপামর রাজ্যবাসীর প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাংলার প্রতি কার্যত 'কল্পতরু' হয়ে ধরা দিল দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকার।
বাজেট পেশের ঠিক আগের রাতেই জানা গেল, বাংলার জন্য বিপুল অঙ্কের বিপুল অর্থ বরাদ্দ করার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্র। নতুন সরকারের দেড় মাস পার হওয়ার আগেই দিল্লির এই দরাজ হস্ত এক লহমায় বদলে দিতে চলেছে রাজ্যের অর্থনৈতিক চালচিত্র। বিশেষ করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (DA) বৃদ্ধি থেকে শুরু করে একগুচ্ছ নতুন জনমুখী প্রকল্পের জল্পনার মাঝেই কেন্দ্রের এই বিশাল আর্থিক অনুদান শুভেন্দু অধিকারীর হাতকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শনিবারই রাজকীয় সমারোহে গোটা রাজ্যে পালিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। খোদ তারকেশ্বরের মাটি থেকে রাজ্যের জনগণকে আবেগঘন বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি পাঁচ পাতার বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই চিঠিতেই খোলসা হয়েছে কেন্দ্রের এই বিরাট আর্থিক প্যাকেজের খতিয়ান।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে সম্ভাব্য সবরকমভাবে সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর। চিঠির হিসাব অনুযায়ী, জল জীবন মিশন এবং পরিকাঠামো সম্পর্কিত কাজসহ অতীতের আটকে থাকা যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের লাইফলাইন তথা রেলের আধুনিকীকরণ ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে আরও প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, বাংলাকে আরও শক্তিশালী করতে আরও ৬০,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল বরাদ্দ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই রাজ্যের কোষাগারে আসতে চলেছে।
"পুরসভার টাকায় মাস্তান পোষা নারুগোপাল এখন পালাচ্ছেন"—দুর্নীতির হিসাব চেয়ে সরব জেলা কংগ্রেস
বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার জোর দিয়েছিলেন 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের সুফলের ওপর। বাংলায় বিজেপি সরকার গড়তেই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দিল্লির সরকার যে সবরকমভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা এই বরাদ্দেই স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে গভীর আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে এবার এক আধুনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।
তার জন্য রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা, শিল্প ক্ষেত্রে জোয়ার আনা, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে (MSME) চাঙ্গা করা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে। কোনো রকম হয়রানি বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই যাতে নতুন শিল্পপতিরা বাংলায় কাজ করতে পারেন, তার জন্য শুভেন্দু সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মোদীর আশা, আগামী দিনে বাংলা মৎস্য চাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, বস্ত্রশিল্প এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থকে নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রে রেখে ডবল ইঞ্জিন গতিতে নতুন বাংলা গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন