Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পাহাড়ে হড়পা বান, জলোচ্ছ্বাসে নিমেষেই উধাও আস্ত ব্রিজ! সিকিম ও ভুটানে চরম বিপর্যয়, আটকে শ’য়ে শ’য়ে পর্যটক

পাহাড়ে হড়পা বান, জলোচ্ছ্বাসে নিমেষেই উধাও আস্ত ব্রিজ! সিকিম ও ভুটানে চরম বিপর্যয়, আটকে শ’য়ে শ’য়ে পর্যটক
ছবি সংগৃহীত

গ্যাংটক: প্রকৃতির রুদ্ররূপে কার্যত তছনছ হয়ে গেল উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অতি ভারী বৃষ্টির জেরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ হড়পা বান ও একাধিক ধস। প্রবল জলের তোড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে ফিডাং এলাকার ‘ফি খোলা’ নদীর ওপর তৈরি হওয়া আস্ত একটি বেইলি ব্রিজ। ভেঙে পড়েছে একাধিক প্রধান সড়ক, যার ফলে দেশের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। এই চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে আটকে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিপর্যস্ত এলাকা থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের জওয়ানরা।


টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিমের তারামচু এলাকায় চুংথাং-লাচেন সড়ক ভয়াবহ ভূমিধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে রাতেই আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় সেনা জওয়ানদের। আপাতত ডনকিয়ালা-লাচুং হয়ে একটি বিকল্প পথে যাতায়াতের সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সিংতাম-দিকচু সড়ক রাংচাঙে এবং মঙ্গন-গ্যাংটক সড়ক নামোক খোলায় ধসের কারণে পুরোপুরি বন্ধ। ফি খোলার বেইলি ব্রিজটি ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে একাধিক গ্রামের, ফলে থমকে গিয়েছে জরুরি চিকিৎসা ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ। ধসের হাত থেকে রেহাই পায়নি পাহাড়ের নীচের অংশও, কার্শিয়াংয়ের গয়াবাড়ি সড়ক অবরুদ্ধ হওয়ায় পর্যটকদের শিলিগুড়ি ফেরার জন্য বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সিকিম পর্যটন দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে তবেই সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


পাহাড়ের এই দুর্যোগের আঁচ এসে পড়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানেও। সেখানেও ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক আকার ধারণ করেছে। ফুন্টশলিংয়ের তোর্সা হাউজিং কলোনি প্লাবিত হওয়ায় রয়্যাল ভুটান পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তড়িঘড়ি বহু বাসিন্দাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে। বৃষ্টির জলে ভারত-ভুটান সীমান্তের মূল ফটক এলাকা কার্যত এক ফুট জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছে, বন্যার জল ঢুকে পড়েছে বাড়িঘর ও বাস টার্মিনালে। হড়পা বানের সঙ্গে ধেয়ে আসা বিপুল আবর্জনা ও পাথরের স্তূপে ফুন্টশিলিং-থিম্পু মহাসড়কও এখন অবরুদ্ধ। এদিকে সিকিম ও ভুটানের পাহাড়ে এই রেকর্ড ভাঙা বর্ষণের ফলে সমতলের দিকে হু হু করে নামছে জল, যার জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে এবং ডুয়ার্স সহ সংলগ্ন সমতল এলাকায় নতুন করে বন্যার ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে।

বিষয় : LandslideAlert sikkimdisaster bhutanfloods indianarmyrescue

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


পাহাড়ে হড়পা বান, জলোচ্ছ্বাসে নিমেষেই উধাও আস্ত ব্রিজ! সিকিম ও ভুটানে চরম বিপর্যয়, আটকে শ’য়ে শ’য়ে পর্যটক

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
গ্যাংটক: প্রকৃতির রুদ্ররূপে কার্যত তছনছ হয়ে গেল উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অতি ভারী বৃষ্টির জেরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ হড়পা বান ও একাধিক ধস। প্রবল জলের তোড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে ফিডাং এলাকার ‘ফি খোলা’ নদীর ওপর তৈরি হওয়া আস্ত একটি বেইলি ব্রিজ। ভেঙে পড়েছে একাধিক প্রধান সড়ক, যার ফলে দেশের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। এই চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে আটকে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিপর্যস্ত এলাকা থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের জওয়ানরা।টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিমের তারামচু এলাকায় চুংথাং-লাচেন সড়ক ভয়াবহ ভূমিধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে রাতেই আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় সেনা জওয়ানদের। আপাতত ডনকিয়ালা-লাচুং হয়ে একটি বিকল্প পথে যাতায়াতের সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সিংতাম-দিকচু সড়ক রাংচাঙে এবং মঙ্গন-গ্যাংটক সড়ক নামোক খোলায় ধসের কারণে পুরোপুরি বন্ধ। ফি খোলার বেইলি ব্রিজটি ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে একাধিক গ্রামের, ফলে থমকে গিয়েছে জরুরি চিকিৎসা ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ। ধসের হাত থেকে রেহাই পায়নি পাহাড়ের নীচের অংশও, কার্শিয়াংয়ের গয়াবাড়ি সড়ক অবরুদ্ধ হওয়ায় পর্যটকদের শিলিগুড়ি ফেরার জন্য বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সিকিম পর্যটন দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে তবেই সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।পাহাড়ের এই দুর্যোগের আঁচ এসে পড়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানেও। সেখানেও ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক আকার ধারণ করেছে। ফুন্টশলিংয়ের তোর্সা হাউজিং কলোনি প্লাবিত হওয়ায় রয়্যাল ভুটান পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তড়িঘড়ি বহু বাসিন্দাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে। বৃষ্টির জলে ভারত-ভুটান সীমান্তের মূল ফটক এলাকা কার্যত এক ফুট জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছে, বন্যার জল ঢুকে পড়েছে বাড়িঘর ও বাস টার্মিনালে। হড়পা বানের সঙ্গে ধেয়ে আসা বিপুল আবর্জনা ও পাথরের স্তূপে ফুন্টশিলিং-থিম্পু মহাসড়কও এখন অবরুদ্ধ। এদিকে সিকিম ও ভুটানের পাহাড়ে এই রেকর্ড ভাঙা বর্ষণের ফলে সমতলের দিকে হু হু করে নামছে জল, যার জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে এবং ডুয়ার্স সহ সংলগ্ন সমতল এলাকায় নতুন করে বন্যার ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার