পুণে: পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের নামে হবু স্বামীকে ঠেলে ফেলে খুনের ঘটনায় এবার সামনে এলো আরও এক চরম নির্লজ্জ ও বিস্ফোরক অধ্যায়। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিন্দুমাত্র অনুশোচনা তো দূরস্থ, উল্টে তদন্তকারীদের কাছে বারবার মদ খাওয়ার আবদার জুড়েছেন মূল অভিযুক্ত তরুণী সিয়া গোয়েল! পুলিশ সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি এবার সিয়া ও তাঁর ‘খুনি’ প্রেমিক চেতন চৌধুরীর একটি অতি ঘনিষ্ঠ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্রভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে গোটা দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিয়া দীর্ঘদিন ধরেই মদের নেশায় মারাত্মকভাবে আসক্ত এবং পুণে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এই অপরাধী যুগলের ঠান্ডা মাথার নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট ছিল।
তদন্তে নেমে পুলিশ সিয়ার অতীত জীবনের একাধিক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। জানা গিয়েছে, দ্বাদশ শ্রেণিতে একবার অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই অবসাদে ভুগে মদের নেশার কবলে পুরোপুরি তলিয়ে যান এই তরুণী। শুধু তাই নয়, এর পর থেকেই একসঙ্গে একাধিক পুরুষের সঙ্গেও তিনি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি। লকআপে বসেও সিয়ার মদ্যপানের এই অনড় জেদ দেখে তাজ্জব বনে গেছেন দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। এরই মাঝে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে পাশাপাশি বসে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ম্যাচ উপভোগ করছেন সিয়া ও চেতন। পুলিশ জানতে পেরেছে, সিয়ার নিজের দাদা সাহিলের সঙ্গে একসময় ক্রিকেট খেলতেন চেতন। সেই সূত্র ধরেই চেতনের সঙ্গে সিয়ার প্রথম আলাপ এবং পরবর্তীতে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়।
আসন্ন নভেম্বরেই কেতন নামে এক যুবকের সঙ্গে সিয়ার ধুমধাম করে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে সিয়া এই বিয়েতে মত দিলেও, পরে তিনি চেতনের প্রেমে অন্ধ হয়ে বিয়েটি ভাঙতে চান। কিন্তু পরিবারের তীব্র চাপের মুখে পড়ে বিয়ে বাতিল করতে না পেরেই হবু স্বামী কেতনকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নৃশংস পথ বেছে নেন সিয়া। রবিবার সকালেই সিয়া ও চেতনকে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যান তদন্তকারীরা, যেখানে হুবহু খতিয়ে দেখা হয় খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা ক্রাইম রিকনস্ট্রাকশন। এই চক্রে পরিবারের কারও সায় ছিল কি না, তা জানতে সিয়ার বাবা-মাকেও ম্যারাথন জেরা করা হয়েছে। শুরুতে সিয়া ও চেতন একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, পুলিশের সাঁড়াশি জেরার মুখে দু’জনেই নিজেদের অপরাধ কবুল করেছেন। জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন