Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারের পরেই রণক্ষেত বারুইপুরে মধ্যরাতে বিরাট অ্যাকশন! জালে আরও ২২, কাঁপছে এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারের পরেই রণক্ষেত বারুইপুরে মধ্যরাতে বিরাট অ্যাকশন! জালে আরও ২২, কাঁপছে এলাকা
বারুইপুরে পিটিয়ে খুন ও অশান্তির ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ২২। ছবি-সংগৃহীত

বারুইপুর: নাবালিকাকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকে কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর বসে রয়েছে বারুইপুর। সেই অশান্তি, অগ্নিসংযোগ এবং গণপিটুনিতে নির্দোষ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার চরম কড়া মনোভাব নিল প্রশাসন। "আইনভঙ্গকারী কাউকেই রেয়াত করা হবে না"— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া হুঁশিয়ারির পরেই কার্যত নজিরবিহীন অ্যাকশনে নেমেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। পর পর দু’দিন ধরে এলাকা জুড়ে চলল মধ্যরাতের চিরুনি তল্লাশি। বুধবার রাতের অন্ধকারেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে আরও ২২ জন বিক্ষোভকারী। সব মিলিয়ে এই তাণ্ডবের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ প্রশাসন। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

মুখ্যমন্ত্রীর ডেডলাইনের পরেই খোলস ছেড়ে বেরোয় বারুইপুর জেলা পুলিশ। রণক্ষেত্রের চেহারা নেওয়া এলাকাগুলোর সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার সময়ে সাধারণ মানুষের মোবাইলে তোলা সমস্ত ভিডিও ক্লিপ জোগাড় করেন তদন্তকারীরা। কোন কোন মুখ সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, রেল অবরোধ এবং পুলিশের ওপর হামলায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, তা ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে চিহ্নিত করা শুরু হয়। বুধবারই ১৮ জনকে পাকড়াও করা হয়েছিল, আর বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সেই তালিকায় জুড়ে গেল আরও ২২টি নাম। পুলিশের দাবি, ধৃতরা সকলেই এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হতেই ফুঁসে ওঠে গোটা এলাকা। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে শিয়ালদহ-নামখানা শাখার রেললাইন এবং স্থানীয় রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ করে শুরু হয় বেনজির বিক্ষোভ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদী জনতা রূপ নেয় এক হিংসাত্মক উন্মত্ত ভিড়ে। মূল অপরাধী সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক স্থানীয় যুবককে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে শুরু হয় গণপিটুনি। উন্মত্ত জনতার মারে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই যুবক, যদিও পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে মৃত ইন্দ্রজিৎ সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। এই ভুল বোঝাবুঝির আগুন আরও ঘৃতাহুতি পায় যখন পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে শুরু হয় এলোপাথাড়ি ইট ও কাচের বোতল বৃষ্টি। পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার জেরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হন।

এই মুহূর্তে নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বারুইপুর, সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় কড়া প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি করে চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। গোটা এলাকা জুড়ে থিকথিক করছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে পুলিশের কড়া রুট মার্চ ও টহলদারি। তবে পুলিশের এই মধ্যরাতের ধরপাকড়ে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলার রাশ শক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে চাপা আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BARUIPUR PoliceAction lawandorder HiddenStoriesNews MamataBanerjee WestBengal baruipurhorror

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারের পরেই রণক্ষেত বারুইপুরে মধ্যরাতে বিরাট অ্যাকশন! জালে আরও ২২, কাঁপছে এলাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image
বারুইপুর: নাবালিকাকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকে কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর বসে রয়েছে বারুইপুর। সেই অশান্তি, অগ্নিসংযোগ এবং গণপিটুনিতে নির্দোষ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার চরম কড়া মনোভাব নিল প্রশাসন। "আইনভঙ্গকারী কাউকেই রেয়াত করা হবে না"— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া হুঁশিয়ারির পরেই কার্যত নজিরবিহীন অ্যাকশনে নেমেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। পর পর দু’দিন ধরে এলাকা জুড়ে চলল মধ্যরাতের চিরুনি তল্লাশি। বুধবার রাতের অন্ধকারেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে আরও ২২ জন বিক্ষোভকারী। সব মিলিয়ে এই তাণ্ডবের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ প্রশাসন। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।মুখ্যমন্ত্রীর ডেডলাইনের পরেই খোলস ছেড়ে বেরোয় বারুইপুর জেলা পুলিশ। রণক্ষেত্রের চেহারা নেওয়া এলাকাগুলোর সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার সময়ে সাধারণ মানুষের মোবাইলে তোলা সমস্ত ভিডিও ক্লিপ জোগাড় করেন তদন্তকারীরা। কোন কোন মুখ সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, রেল অবরোধ এবং পুলিশের ওপর হামলায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, তা ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে চিহ্নিত করা শুরু হয়। বুধবারই ১৮ জনকে পাকড়াও করা হয়েছিল, আর বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সেই তালিকায় জুড়ে গেল আরও ২২টি নাম। পুলিশের দাবি, ধৃতরা সকলেই এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হতেই ফুঁসে ওঠে গোটা এলাকা। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে শিয়ালদহ-নামখানা শাখার রেললাইন এবং স্থানীয় রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ করে শুরু হয় বেনজির বিক্ষোভ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদী জনতা রূপ নেয় এক হিংসাত্মক উন্মত্ত ভিড়ে। মূল অপরাধী সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক স্থানীয় যুবককে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে শুরু হয় গণপিটুনি। উন্মত্ত জনতার মারে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই যুবক, যদিও পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে মৃত ইন্দ্রজিৎ সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। এই ভুল বোঝাবুঝির আগুন আরও ঘৃতাহুতি পায় যখন পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে শুরু হয় এলোপাথাড়ি ইট ও কাচের বোতল বৃষ্টি। পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার জেরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হন।এই মুহূর্তে নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বারুইপুর, সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় কড়া প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি করে চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। গোটা এলাকা জুড়ে থিকথিক করছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে পুলিশের কড়া রুট মার্চ ও টহলদারি। তবে পুলিশের এই মধ্যরাতের ধরপাকড়ে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলার রাশ শক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে চাপা আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার