কলকাতা: কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে হাজিরার খাঁড়ায় যখন হাই কোর্টে জোর ধাক্কা খেয়েছেন, ঠিক তখনই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আছড়ে পড়ল কেন্দ্রীয় এজেন্সির আরও এক মারাত্মক পারমাণবিক বোমা!
তৃণমূলের ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে এবার চরম বিপাকে পড়লেন ‘কালীঘাটের তৃণমূলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED) হাতে এসেছে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা শুনলে চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য। তৃণমূলের ফ্রিজ হওয়া তিনটি প্রধান অ্যাকাউন্টের একটিতেই হদিস মিলেছে নগদ ৪২০ কোটি টাকার! আর সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটি হলো, ওই বিপুল অঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে চেকে সই করে টাকা তোলার একক ও যৌথ ক্ষমতা (সাইনিং অথরিটি) রয়েছে স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা এআইটিসির (AITC) নামে থাকা একটি নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের ওই বিশেষ অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখতে গিয়েই এই বিস্ফোরক নথির সন্ধান পান। সেখানে দেখা গেছে, যুবরাজ অভিষেকের সঙ্গে যৌথভাবে ওই চেক সই করার আইনি ক্ষমতা রয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়নেরও। দুর্নীতি ও তোলাবাজির টাকা আড়াল করতেই এই ব্যবস্থা কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
ফের হাতির হানায় আতঙ্ক! ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলে জঙ্গলে ঢুকল ৭ ৮টি হাতির দল, সতর্কতা বনদপ্তরের
এখনও পর্যন্ত ইডি তৃণমূলের মোট তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে, যার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গোয়া ও ত্রিপুরার এআইটিসি শাখার অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ২০ কোটি, আর বাকি ৪২০ কোটি টাকাই রয়েছে অভিষেক-ডেরেক নিয়ন্ত্রিত ওই একটিমাত্র অ্যাকাউন্টে। একটি অ্যাকাউন্টে কেন এত বিপুল পরিমাণ টাকা গচ্ছিত রাখা হলো এবং তার উৎস কী, তা জানতে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে সমস্ত নথি তলব করেছে ইডি। তদন্তের স্বার্থে খুব শীঘ্রই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ইডির নজরে থাকা ওই মেগা অ্যাকাউন্টটি ছাড়াও এআইটিসির আরও দুটি অ্যাকাউন্টের সাইনিং অথরিটি হিসেবে নাম রয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তী এবং বর্তমানে জেলবন্দি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। তবে ইডির মূল লক্ষ্য এখন অভিষেকের সই থাকা অ্যাকাউন্টটিই। অন্যদিকে, এখানেই শেষ নয়, রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী তদন্তের পরিধি বাড়াতে আরও ১২টি বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে সেই সবুজ সংকেত মিলতেই সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের মোট ১৫টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পুলিশি ও এজেন্সি সূত্রের দাবি, এই ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১০০০ কোটি টাকারও বেশি ফিক্সড ও কারেন্ট ব্যালেন্স রয়েছে, যা দেখে দুঁদে তদন্তকারীরাও তাজ্জব বনে গেছেন।
তৃণমূলের এই বিপুল টাকার পাহাড় প্রকাশ্যে আসতেই চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে সাইনিং অথরিটি নিয়ে অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘরেই যদি ১৩০০ কোটি টাকা থাকে, তবে যুবরাজের ঘরে ৪০০ কোটি টাকা তো নস্যি! এরা হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি করেছে। আপনারা এখন যা দেখছেন তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র।” তিনি আরও যোগ করেন, “একসঙ্গে ১০০০-২০০০ কোটি টাকা যদি বাংলায় এভাবে বেরোতে থাকে, তবে সাধারণ মানুষ হার্টফেল করে মারা যাবেন। বড় বড় শিল্পপতিরা ভাববেন, সারাজীবন সৎভাবে ব্যবসা না করে তৃণমূল করলেই বোধহয় ভালো হতো। তৃণমূল মানেই চোর, আর এই চোরেদের যুবরাজ হলেন অভিষেক।” এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির পর নবান্ন তথা কালীঘাটের অন্দরে যে চরম কম্পন শুরু হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন