Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মহকুমাশাসকের এফআইআর: কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে গা ঢাকা দিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬
মহকুমাশাসকের এফআইআর: কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে গা ঢাকা দিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান!
ফাইল ছবি

বিষ্ণুপুর: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই এবার জেলা স্তরেও শুরু হয়ে গেল ব্যাপক দুর্নীতি দমন অভিযান। বালি, কয়লা বা বড় কেলেঙ্কারির পর এবার পুরসভার সরকারি তহবিল নিয়ে ‘বিশাল’ আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে তোলপাড় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। 


কাটমানি, স্বজনপোষণ এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে বিষ্ণুপুর পুরসভার সদ্যপদত্যাগী তৃণমূলী পুরপ্রধান গৌতম গোস্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন মহকুমাশাসক (SDO) প্রসেনজিৎ ঘোষ। আর মহকুমাশাসকের এই কড়া পদক্ষেপের খবর চাউর হতেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন অভিযুক্ত বিদায়ী পুরপ্রধান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে মল্লভূমে।


বিষ্ণুপুর পুরসভার এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ খতিয়ান। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার যাবতীয় বেনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিষ্ণুপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়। তাঁরই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ওই বিশেষ কমিটি টানা দু'দিন ধরে বিষ্ণুপুর পুরসভায় বসে যাবতীয় আয় ও ব্যয়ের অডিট ফাইল খতিয়ে দেখে। 


তদন্তের সেই গোপন রিপোর্টে দেখা গেছে, পুরসভার দৈনন্দিন টোল আদায়ের ক্ষেত্রে হয়েছে বিরাট অঙ্কের জালিয়াতি। শুধু তাই নয়, পুরবোর্ডের কোনও আইনি অনুমোদন ছাড়াই নিজের মর্জিমাফিক অবসরপ্রাপ্ত অস্থায়ী কর্মীদের বছরের পর বছর বহাল রাখা, পুর এলাকায় বেআইনি বহুতল নির্মাণের বেপরোয়া ছাড়পত্র দেওয়া এবং নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের প্রভাবশালীদের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি কর (Property Tax) সম্পূর্ণ মুকুব করে দেওয়ার মতো মারাত্মক বেনিয়ম হাতেনাতে ধরেছেন তদন্তকারীরা।

মহকুমাশাসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করতেই হন্যে হয়ে অভিযুক্ত গৌতম গোস্বামীকে খুঁজছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রেফতারির ভয়ে তিনি ইতিমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এই বিষয়ে সুর চড়িয়ে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলাম যে, বিষ্ণুপুর পুরসভায় কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি এবং চরম স্বজনপোষণ চলছে। 


কিন্তু পূর্বতন তৃণমূল সরকার আমাদের কথায় কান দেয়নি। রাজ্যে পরিবর্তনের পর নিরপেক্ষ তদন্ত হতেই সব চুরির প্রমাণ এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এফআইআর হতেই নিজেকে বাঁচাতে বিদায়ী পুরপ্রধান এখন ইঁদুরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু চুরির টাকা উগরে না দেওয়া পর্যন্ত এভাবে তিনি নিজেকে আড়াল করতে পারবেন না, তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।” সব মিলিয়ে, পরিবর্তনের বাংলায় এবার পুরসভার অন্দরে চলা মেগা চুরির জট ছাড়াতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।

বিষয় : suvendugovernment CORRUPTIONSCAM bankurapolitics tmcscam BISHNUPURMUNICIPALITY

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


মহকুমাশাসকের এফআইআর: কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে গা ঢাকা দিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান!

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image
বিষ্ণুপুর: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই এবার জেলা স্তরেও শুরু হয়ে গেল ব্যাপক দুর্নীতি দমন অভিযান। বালি, কয়লা বা বড় কেলেঙ্কারির পর এবার পুরসভার সরকারি তহবিল নিয়ে ‘বিশাল’ আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে তোলপাড় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। কাটমানি, স্বজনপোষণ এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে বিষ্ণুপুর পুরসভার সদ্যপদত্যাগী তৃণমূলী পুরপ্রধান গৌতম গোস্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন মহকুমাশাসক (SDO) প্রসেনজিৎ ঘোষ। আর মহকুমাশাসকের এই কড়া পদক্ষেপের খবর চাউর হতেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন অভিযুক্ত বিদায়ী পুরপ্রধান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে মল্লভূমে।বিষ্ণুপুর পুরসভার এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ খতিয়ান। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার যাবতীয় বেনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিষ্ণুপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়। তাঁরই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ওই বিশেষ কমিটি টানা দু'দিন ধরে বিষ্ণুপুর পুরসভায় বসে যাবতীয় আয় ও ব্যয়ের অডিট ফাইল খতিয়ে দেখে। তদন্তের সেই গোপন রিপোর্টে দেখা গেছে, পুরসভার দৈনন্দিন টোল আদায়ের ক্ষেত্রে হয়েছে বিরাট অঙ্কের জালিয়াতি। শুধু তাই নয়, পুরবোর্ডের কোনও আইনি অনুমোদন ছাড়াই নিজের মর্জিমাফিক অবসরপ্রাপ্ত অস্থায়ী কর্মীদের বছরের পর বছর বহাল রাখা, পুর এলাকায় বেআইনি বহুতল নির্মাণের বেপরোয়া ছাড়পত্র দেওয়া এবং নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের প্রভাবশালীদের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি কর (Property Tax) সম্পূর্ণ মুকুব করে দেওয়ার মতো মারাত্মক বেনিয়ম হাতেনাতে ধরেছেন তদন্তকারীরা।মহকুমাশাসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করতেই হন্যে হয়ে অভিযুক্ত গৌতম গোস্বামীকে খুঁজছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রেফতারির ভয়ে তিনি ইতিমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এই বিষয়ে সুর চড়িয়ে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলাম যে, বিষ্ণুপুর পুরসভায় কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি এবং চরম স্বজনপোষণ চলছে। কিন্তু পূর্বতন তৃণমূল সরকার আমাদের কথায় কান দেয়নি। রাজ্যে পরিবর্তনের পর নিরপেক্ষ তদন্ত হতেই সব চুরির প্রমাণ এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এফআইআর হতেই নিজেকে বাঁচাতে বিদায়ী পুরপ্রধান এখন ইঁদুরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু চুরির টাকা উগরে না দেওয়া পর্যন্ত এভাবে তিনি নিজেকে আড়াল করতে পারবেন না, তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।” সব মিলিয়ে, পরিবর্তনের বাংলায় এবার পুরসভার অন্দরে চলা মেগা চুরির জট ছাড়াতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার