কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে বাংলার রাজনৈতিক মহলে কংগ্রেসের ‘রবিনহুড’ অধীররঞ্জন চৌধুরীর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। চব্বিশের লোকসভায় নিজের গড় মুর্শিদাবাদে হারের পরও কেন তিনি দিল্লির দেওয়া ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরির ভিভিআইপি নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন, তা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রবল স্রোতে ভাঙল সুবর্ণরেখার সেতু, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিপুল পরিবর্তনের পর এবং বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মাথায় বড়সড় কোপ পড়ল অধীরের নিরাপত্তায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, অধীর চৌধুরীর নিরাপত্তা একধাক্কায় কমিয়ে এখন ‘এক্স’ (X) ক্যাটাগরি করে দেওয়া হয়েছে। আর এই আচমকা রদবদলের নেপথ্যে কোন গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অধীর চৌধুরী সাংসদ থাকাকালীন তাঁর সুরক্ষায় মোতায়েন থাকতেন পাঁচজন সশস্ত্র কমান্ডো ও জওয়ান। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সাংসদ পদ খোয়ানোর পরেও তাঁর নিরাপত্তা বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছিল। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য জনসভা থেকে তোপ দেগে বলেছিলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে অধীর চৌধুরীর গোপন ‘আঁতাত’ রয়েছে এবং তিনি আসলে নিজের ব্যক্তিস্বার্থে ও নিরাপত্তা বাঁচাতে আসল বিজেপি বিরোধিতা করেন না। এমনকি ২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেও অধীরের নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই সেই মেগা নিরাপত্তা হঠাৎ তুলে নেওয়া হলো কেন, তা নিয়েই এখন নিন্দুকেরা রাজনীতির জটিল অঙ্ক মেলাতে ব্যস্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চব্বিশের লোকসভার পর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও কার্যত ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের এবং অধীর নিজেও পরাজিত হয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের কোনও শীর্ষ পদেও নেই। ফলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনও সাংবিধানিক পদে না থাকার কারণেই এই নিরাপত্তা ছাঁটাই করা হয়েছে। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ ও উদাসীনতা প্রকাশ করে প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “আমার নিরাপত্তা কমেছে নাকি বেড়েছে তা আমি জানি না। আগেও কয়েকজন থাকত, এখনও পর্যন্ত দেখছি তারা আছে। বাকিটা আমার জানা নেই। তবে এটুকু মনে রাখবেন, আমি কোনওদিন কারও কাছে হাত পেতে নিরাপত্তা চাইনি।”
নিজের এই মন্তব্যের মাধ্যমে অধীর বুঝিয়ে দিতে চাইলেন যে, নিরাপত্তা দেওয়া বা কাড়ার পেছনে বিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সমীকরণের সম্পর্ক নেই। তবে প্রশাসনের এই ঝোড়ো চালে মুর্শিদাবাদের ‘সুলতান’ যে কিছুটা ব্যাকফুটে, তা বলাই বাহুল্য।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন