তমলুক: প্রতিদিনের পারিবারিক অশান্তি আর মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের বদলা নিতে গিয়ে শেষপর্যন্ত খুনের মতো চরম পথ বেছে নিলেন এক বৃদ্ধ। তমলুক থানার রাধিকাপুর এলাকায় নেশাখোর জামাইকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত শ্বশুর শেখ জুলফিকার।
মৃত ব্যক্তির নাম শেখ মতিবুল। শাশুড়ির অভিযোগ, বছরভর কোনো কাজ না করে মতিবুল সারাদিন নেশা করত। নিজের উপার্জনের টাকা তো দূর, উল্টে প্রতিদিন স্ত্রীর কাছ থেকে জোর করে টাকা ছিনিয়ে নিত সে। টাকা না দিলে চলত অকথ্য মারধর। এমনকী নেশা করে ফিরে শুক্রবার রাতে স্ত্রীর মুখে বালি চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টাও করেছিল সে। প্রতিবাদ করায় শাশুড়িকেও ছাড়েনি। এই অসহ্য অত্যাচারের মধ্যেই শনিবার রাতে ফের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফিরে চরম বিশৃঙ্খলা শুরু করে মতিবুল। দিনের পর দিন মেয়ের ওপর এমন নৃশংস নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে শ্বশুর জুলফিকারের। রবিবার সকালে যখন জামাই ফের অশান্তি শুরু করে, তখন তড়িঘড়ি উঠোন থেকে কাটারি তুলে আনেন তিনি। এরপর সজোরে জামাইয়ের গলায় কোপ বসিয়ে দেন।
ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে মতিবুল। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি তমলুক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধার করে তমলুক গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। ঘটনার পরেই অভিযুক্ত শ্বশুর বাড়ি থেকে চম্পট দিয়েছেন। শাশুড়ির জবানবন্দি অনুযায়ী, অশান্তির ভয়ে প্রতিদিন রাতের খাবারটুকুও জুটত না তাঁদের। নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যতের কথা ভাবার বদলে নেশার টাকা জোগাড়ে ব্যস্ত থাকত মতিবুল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একটি খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন