Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘অভিষেককে সরালে অনেকে মমতার কাছে ফিরবে!’ দল ছাড়ার আগে ‘বিস্ফোরণ’ রবীন্দ্রনাথের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬
‘অভিষেককে সরালে অনেকে মমতার কাছে ফিরবে!’ দল ছাড়ার আগে ‘বিস্ফোরণ’ রবীন্দ্রনাথের
ফাইল ছবি

শিলিগুড়ি: দীর্ঘ ২২ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে শেষপর্যন্ত দলই ছাড়লেন উত্তরবঙ্গের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহভাজন এই নেতা দল ছাড়ার প্রাক্কালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাকের বিরুদ্ধে যে তোপ দাগলেন, তা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। রবীন্দ্রনাথের স্পষ্ট দাবি, অভিষেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং আইপ্যাকের হস্তক্ষেপই তৃণমূলের ভরাডুবির আসল কারণ।


দীর্ঘদিন জেলায় সংগঠনের রাশ হাতে রাখা এই নেতার অভিযোগ, বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ক্ষমতার প্রকৃত প্রয়োগ নেই, বরং তা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। অযোগ্যদের হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জেরেই আজ এই করুণ দশা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে উঠে আসেননি, তাঁর অভিজ্ঞতার অভাব প্রকট। এর পাশাপাশি আইপ্যাকের ভূমিকাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আইপ্যাকের ওই বাচ্চা ছেলেগুলো আমাদের নির্দেশ দিত! অথচ ২০১১ বা ২০১৬ সালের নির্বাচনে তো আইপ্যাকের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। দলটার বারোটা বাজিয়ে দিল ওরা।”


দলবদল করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে বলে বারবার জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করি এবং করব। কিন্তু আমার বিশ্বাস, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি রাজনৈতিক অঙ্গণ থেকে সরিয়ে রাখা হয়, তবে অনেক নেতা-কর্মীই দিদির কাছে আবার ফিরে আসবেন। অনেকের সাথেই আমার কথা হয়েছে, এই ধারণা তাদেরও।” তবে কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এসব কথা সরাসরি বলেননি, তার কোনো স্পষ্ট জবাব না দিলেও রবীন্দ্রনাথের দাবি, দলে এখন অযোগ্যদের আধিপত্য ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকট। সাধারণ কর্মীরা আজ নির্যাতনের মুখে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।


তৃণমূল ছেড়ে রবীন্দ্রনাথের এই নতুন শিবিরে পা রাখা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁর মতে, তৃণমূলে এখন আর আগের মতো আদর্শ অবশিষ্ট নেই। এখন উত্তরবঙ্গের অনেক বিধায়ক ও নেতা একত্রিত হয়ে নতুন পথে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে রবীন্দ্রনাথের এই বিদ্রোহের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং এই দলত্যাগ পরবর্তী সময়ে আরও কত বড় আকার নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

বিষয় : AbhishekBanerjee rabindranathghosh tmcinternalconflict politicalswitch

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


‘অভিষেককে সরালে অনেকে মমতার কাছে ফিরবে!’ দল ছাড়ার আগে ‘বিস্ফোরণ’ রবীন্দ্রনাথের

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image
শিলিগুড়ি: দীর্ঘ ২২ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে শেষপর্যন্ত দলই ছাড়লেন উত্তরবঙ্গের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহভাজন এই নেতা দল ছাড়ার প্রাক্কালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাকের বিরুদ্ধে যে তোপ দাগলেন, তা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। রবীন্দ্রনাথের স্পষ্ট দাবি, অভিষেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং আইপ্যাকের হস্তক্ষেপই তৃণমূলের ভরাডুবির আসল কারণ।দীর্ঘদিন জেলায় সংগঠনের রাশ হাতে রাখা এই নেতার অভিযোগ, বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ক্ষমতার প্রকৃত প্রয়োগ নেই, বরং তা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। অযোগ্যদের হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জেরেই আজ এই করুণ দশা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে উঠে আসেননি, তাঁর অভিজ্ঞতার অভাব প্রকট। এর পাশাপাশি আইপ্যাকের ভূমিকাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আইপ্যাকের ওই বাচ্চা ছেলেগুলো আমাদের নির্দেশ দিত! অথচ ২০১১ বা ২০১৬ সালের নির্বাচনে তো আইপ্যাকের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। দলটার বারোটা বাজিয়ে দিল ওরা।”দলবদল করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে বলে বারবার জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করি এবং করব। কিন্তু আমার বিশ্বাস, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি রাজনৈতিক অঙ্গণ থেকে সরিয়ে রাখা হয়, তবে অনেক নেতা-কর্মীই দিদির কাছে আবার ফিরে আসবেন। অনেকের সাথেই আমার কথা হয়েছে, এই ধারণা তাদেরও।” তবে কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এসব কথা সরাসরি বলেননি, তার কোনো স্পষ্ট জবাব না দিলেও রবীন্দ্রনাথের দাবি, দলে এখন অযোগ্যদের আধিপত্য ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকট। সাধারণ কর্মীরা আজ নির্যাতনের মুখে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।তৃণমূল ছেড়ে রবীন্দ্রনাথের এই নতুন শিবিরে পা রাখা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁর মতে, তৃণমূলে এখন আর আগের মতো আদর্শ অবশিষ্ট নেই। এখন উত্তরবঙ্গের অনেক বিধায়ক ও নেতা একত্রিত হয়ে নতুন পথে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে রবীন্দ্রনাথের এই বিদ্রোহের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং এই দলত্যাগ পরবর্তী সময়ে আরও কত বড় আকার নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার