ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আবারও তৈরি হল নতুন ইতিহাস। নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাজ করার বিরল সুযোগ পেলেন সেনাবাহিনীর আধিকারিক মেজর নব্যা শেখাওয়াত। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর *Aide-de-Camp (ADC) বা সামরিক সহকারী হিসেবে তাঁর নিয়োগ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারীদের অগ্রযাত্রার এক বড় উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মেজর নব্যা শেখাওয়াত বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর *আর্মি সার্ভিস কর্পস (Army Service Corps বা ASC)*-এ কর্মরত। সম্প্রতি তাঁকে রাষ্ট্রপতির ADC হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম মহিলা অফিসার, যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ২০২৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার যশস্বী সোলাঙ্কি রাষ্ট্রপতির ADC হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মহিলা সামরিক আধিকারিক হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। আর এবার সেই তালিকায় যোগ হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর নামও।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন মেজর নব্যা শেখাওয়াত। সেনাবাহিনীর অন্যতম সম্মানজনক এই পদে কাজ করার সুযোগ খুব কম অফিসারই পান। তাই এই নিয়োগকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন মেজর নব্যা শেখাওয়াত। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। এরপর কয়েক বছরের মধ্যেই নিজের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের গুণ এবং শৃঙ্খলার জন্য দ্রুত মেজর পদে উন্নীত হন। তাঁর কাজের মান এবং দায়িত্ব পালনের দক্ষতাই তাঁকে রাষ্ট্রপতির ADC হিসেবে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন সেনা মহলের একাংশ।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারীদের পথচলা শুরু হয় ১৯৯২ সালে, যখন প্রথমবার শর্ট সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মহিলাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তারপর ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন এবং আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে মহিলাদের জন্য নতুন নতুন সুযোগের দরজা খুলে যায়।
বিশেষ করে ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর মহিলা সেনা অফিসাররা স্থায়ী কমিশন পাওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি নেতৃত্বের পদ, কমান্ডের দায়িত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বেও তাঁদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। বর্তমানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে।
মেজর নব্যা শেখাওয়াতের এই সাফল্য সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক। তাঁর এই অর্জন শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য গর্বের নয়, দেশের অসংখ্য তরুণীর কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং যোগ্যতা থাকলে যে দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বগুলির একটিতেও পৌঁছানো সম্ভব, তাঁর এই সাফল্য সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন