ওয়াশিংটন: ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এবং রুশ তেলের বিশ্বস্ত গ্রাহকদের কড়া শিক্ষা দিতে এবার নতুন ‘শুল্ক অস্ত্র’ প্রয়োগ করল আমেরিকা। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বন্ধ করতে মার্কিন সেনেটে পেশ হতে চলেছে এক অত্যন্ত কড়া ও চাঞ্চল্যকর বিল। এই নতুন বিলের খসড়া অনুযায়ী, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে যে সমস্ত দেশ রাশিয়ার থেকে তেল বা গ্যাস কিনবে, তাদের ওপর সরাসরি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক চাপানো হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে মার্কিন সেনেটরদের একটি শক্তিশালী দল যৌথ ভাবে এই বিলের প্রস্তাব এনেছে। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী আগস্ট মাসের আগেই মার্কিন সংসদে এই বিলটি পাস করিয়ে আইন হিসেবে কার্যকর করা হতে পারে। আর আমেরিকার এই চরম পদক্ষেপের জেরে ভারত ও চিন সহ বিশ্বের প্রধান ৫টি দেশ বড়সড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিপাকে পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন সেনেটের এই নতুন বিল প্রসঙ্গে সেনেটর ব্লুমেনথাল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মূলত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা ৫টি দেশকে টার্গেট করেই এই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি রয়েছে চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই কড়া নিয়মে আংশিক ছাড় দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। মার্কিন সেনেট সূত্রের খবর, নতুন এই বিলের পক্ষে ইতিমধ্যেই ২৬ জন প্রভাবশালী সেনেটর তাঁদের লিখিত সম্মতি জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে এই সমর্থন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিরুদ্ধে প্রথম সরব হয়েছিলেন ভারত-বিরোধী হিসেবে পরিচিত এবং সদ্য প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। সেই সময় তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুমকি দিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আকাশছোঁয়া শুল্ক চাপানোর বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও নানাবিধ আন্তর্জাতিক সমীকরণের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই কড়া বিলটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। গ্রাহামের মৃত্যুর পর মার্কিন সেনেটে এখন যে নতুন বিলটি পেশ হতে চলেছে, সেটি আসলে আগের বিলেরই একটি পরিমার্জিত ও সংশোধিত রূপ। ৫০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শুল্কের হার ১০০ শতাংশ করা হলেও, এই আইন পাস হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির ওপর যে বিপুল আর্থিক বোঝা চাপবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন এই মার্কিন চাপের মুখে নয়া দিল্লি তথা মোদী সরকার কী পাল্টা কৌশল নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য মহল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন