কলকাতা : অবসান ঘটল দীর্ঘ প্রতীক্ষার, কারণ দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। যদিও মূল উৎসব ওড়িশার পুণ্যধাম পুরীতেই অনুষ্ঠিত হয়, তবে প্রভু জগন্নাথের সঙ্গে বাঙালি হৃদয়ের টান চিরকালের এবং অত্যন্ত আবেগের। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শুভারম্ভ কিন্তু এই রথযাত্রার হাত ধরেই হয়, কারণ এই পুণ্য দিনটিতেই শুরু হয়ে যায় দেবী দুর্গার আগমনীর দিনগোনা। আষাঢ় মাসের এই শুক্লা দ্বিতীয় তিথিতেই দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন জগতের নাথ জগন্নাথদেব। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে থাকেন। প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যে, রথের দড়ি স্পর্শ করলে শুধু শারীরিক রোগব্যাধি ও দুঃখ-কষ্টই দূর হয় না, বরং মেলে মোক্ষ লাভ এবং অনন্ত পুণ্য। পশ্চিমবঙ্গেও এই দিনটি ঘিরে প্রাচীন রাজবাড়ি থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ে মোড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উন্মাদনা চোখে পড়ে।
২০২৬ সালের রথযাত্রার মহাপুণ্য তিথি পড়েছে ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার। তবে উৎসবের মূল দ্বিতীয়া তিথি শুরু হয়ে যাচ্ছে আজ অর্থাৎ ১৫ জুলাই, বুধবার দুপুর ১টা ৪৬ মিনিট থেকেই। এই তিথিটি স্থায়ী হবে আগামীকাল ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। ফলে উদয়তিথি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই রথটানের মূল উৎসব পালিত হবে। যাঁরা এই বিশেষ দিনে ঘরে জগন্নাথদেবের আরাধনা করতে চান, তাঁরা আগামীকাল বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যেই পূজার সমস্ত আচার সম্পন্ন করে ফেলবেন। এরপর ঠিক সাত দিন পর, অর্থাৎ আগামী ২৪ জুলাই, শুক্রবার উদযাপিত হবে উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা, যেদিন মাসির বাড়ি থেকে পুনরায় শ্রীমন্দিরে ফিরে আসবেন ত্রিমূর্তি। রথযাত্রা আসলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এক মহামিলনের উৎসব, যেখানে ভেদাভেদ ভুলে সকলে মিলে রথের রশিতে টান দিয়ে নিজেদের মনের নিয়ন্ত্রণ ভগবানের হাতে সঁপে দেন।
এই পুণ্য তিথিতে ঘরে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে এবং মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভ করতে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন শাস্ত্রজ্ঞরা। রথের দিন জগন্নাথদেবের পূজায় সাদা ও হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ। এই দিনটিতে ঘরে বা মন্দিরে বসে ‘বিষ্ণু সহস্রনাম’ অথবা ‘শ্রী জগন্নাথ অষ্টকম’ পাঠ করলে সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। পাশাপাশি, রথের দিন সকালে স্নান সেরে বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে সিঁদুর বা চন্দন দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে সংসারে ধনদেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বর্ষিত হয়। যেহেতু রথকে বিজয়ের প্রতীক বলে মানা হয়, তাই এই পবিত্র দিনে সাধ্যমতো দানধ্যান করা উচিত এবং অন্তত একজন দরিদ্র মানুষকে অন্ন বা খিচুড়ি খাওয়ালে অসীম পুণ্য লাভ হয়। এর পাশাপাশি, রথের দিন বাড়িতে নতুন গাছের চারা রোপণ করা অত্যন্ত শুভ ফল এনে দেয়। উৎসবের দিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ এবং তার পরের দিন সকালে গঙ্গাস্নান করার বিধানও রয়েছে শাস্ত্রে। বড় রথ টানার সুযোগ না পেলেও, শিশুদের ছোট রথের রশি স্পর্শ করলেও মেলে জগন্নাথদেবের বিশেষ কৃপা।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন