Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘সেনাপতিকে বাঁচাতে বলি দেওয়া হয়েছিল!’ মমতার ‘বাঘ’ মন্তব্যের পর পার্থর বিস্ফোরক ইন্টারভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬
‘সেনাপতিকে বাঁচাতে বলি দেওয়া হয়েছিল!’ মমতার ‘বাঘ’ মন্তব্যের পর পার্থর বিস্ফোরক ইন্টারভিউ
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: একদা তিনিই ছিলেন দলের অলিখিত ‘নম্বর টু’। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানো, দীর্ঘ জেল খাটানি এবং জামিনে মুক্তির পর এখন দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কয়েকশো মাইলের। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের ভেতরের ফাটলগুলো এবার একে একে জনসমক্ষে টেনে আনছেন সেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন পার্থ। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “মমতা সব কিছুই জানতেন। সব কিছু হতে দিয়েছেন।” এমনকি দলে শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অভিষেককে তুলতে যে একটা সময়ে শুভেন্দু অধিকারীকেও যথাতথ সম্মান দেওয়া হয়নি, তাও সবাই জানে।”


আসলে ছাব্বিশের ভোটের পর তৃণমূল এখন পুরোপুরি ছন্নছাড়া। একের পর এক নেতা যখন দল ছাড়ছেন, তখন তাঁদের নিশানায় মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি মদন মিত্র দল ছাড়ার পর খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে অভিষেককে ‘বাঘ’ বলে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। মমতার সেই মন্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁরা সবাই বেইমান আমি মনে করি না। এত কিছুর পরও অভিষেককে মমতা বলছেন বাঘ। তাহলে বাকিরা কী? বেড়াল? তাহলে বলতে হয়, বাঘের অত্যাচারে বেড়ালরা চলে গেল।” তাঁর সাফ কথা, “যেদিন থেকে দিদি অভিষেককে রাজনৈতিকভাবে তুলল, সেদিন থেকেই তৃণমূলের পতন শুরু।”


নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, মে মাসে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। পার্থর সোজা কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দলের সমস্ত দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং আড়াল করেছেন। আজকের এই ভরাডুবির জন্য মমতা ও অভিষেক উভয়েই সমানভাবে দায়ী। ৪ মে-র ফলাফলই প্রমাণ করেছে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।” দলে কর্পোরেট সংস্থা আই-প্যাকের হস্তক্ষেপ এবং অভিষেকের একাধিপত্যই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে বলে তাঁর দাবি।

তবে ইন্টারভিউয়ের শেষভাগে শিক্ষা দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের নেপথ্যে থাকা ‘আসল মাথা’ কে, তা নিয়ে সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তদন্তের মুখোমুখি দাঁড়ানো পার্থর সরাসরি চ্যালেঞ্জ, “শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি করছি। তাহলেই সব সত্য বেরিয়ে যাবে। আসলে সেনাপতিকে (অভিষেক) আড়াল করতে আমাকেই বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল। আমার এই জেল যাত্রার জন্য দায়ী মমতা ও অভিষেক। কার টাকা ছিল সব প্রমাণিত হবে। আমি এখন ট্রায়ালে আছি, তাই এখনই সব বলছি না। তবে সময় আসুক, সব সত্যি সামনে এনে দেব।” পার্থর এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের পর যে তিলোত্তমার রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

বিষয় : BengalPolitics MAMATABANERJEE AbhishekBanerjee PARTHACHATTERJEE TMCRESHUFFLE

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


‘সেনাপতিকে বাঁচাতে বলি দেওয়া হয়েছিল!’ মমতার ‘বাঘ’ মন্তব্যের পর পার্থর বিস্ফোরক ইন্টারভিউ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: একদা তিনিই ছিলেন দলের অলিখিত ‘নম্বর টু’। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানো, দীর্ঘ জেল খাটানি এবং জামিনে মুক্তির পর এখন দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কয়েকশো মাইলের। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের ভেতরের ফাটলগুলো এবার একে একে জনসমক্ষে টেনে আনছেন সেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন পার্থ। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “মমতা সব কিছুই জানতেন। সব কিছু হতে দিয়েছেন।” এমনকি দলে শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অভিষেককে তুলতে যে একটা সময়ে শুভেন্দু অধিকারীকেও যথাতথ সম্মান দেওয়া হয়নি, তাও সবাই জানে।”আসলে ছাব্বিশের ভোটের পর তৃণমূল এখন পুরোপুরি ছন্নছাড়া। একের পর এক নেতা যখন দল ছাড়ছেন, তখন তাঁদের নিশানায় মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি মদন মিত্র দল ছাড়ার পর খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে অভিষেককে ‘বাঘ’ বলে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। মমতার সেই মন্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁরা সবাই বেইমান আমি মনে করি না। এত কিছুর পরও অভিষেককে মমতা বলছেন বাঘ। তাহলে বাকিরা কী? বেড়াল? তাহলে বলতে হয়, বাঘের অত্যাচারে বেড়ালরা চলে গেল।” তাঁর সাফ কথা, “যেদিন থেকে দিদি অভিষেককে রাজনৈতিকভাবে তুলল, সেদিন থেকেই তৃণমূলের পতন শুরু।”নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, মে মাসে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। পার্থর সোজা কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দলের সমস্ত দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং আড়াল করেছেন। আজকের এই ভরাডুবির জন্য মমতা ও অভিষেক উভয়েই সমানভাবে দায়ী। ৪ মে-র ফলাফলই প্রমাণ করেছে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।” দলে কর্পোরেট সংস্থা আই-প্যাকের হস্তক্ষেপ এবং অভিষেকের একাধিপত্যই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে বলে তাঁর দাবি।তবে ইন্টারভিউয়ের শেষভাগে শিক্ষা দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের নেপথ্যে থাকা ‘আসল মাথা’ কে, তা নিয়ে সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তদন্তের মুখোমুখি দাঁড়ানো পার্থর সরাসরি চ্যালেঞ্জ, “শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি করছি। তাহলেই সব সত্য বেরিয়ে যাবে। আসলে সেনাপতিকে (অভিষেক) আড়াল করতে আমাকেই বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল। আমার এই জেল যাত্রার জন্য দায়ী মমতা ও অভিষেক। কার টাকা ছিল সব প্রমাণিত হবে। আমি এখন ট্রায়ালে আছি, তাই এখনই সব বলছি না। তবে সময় আসুক, সব সত্যি সামনে এনে দেব।” পার্থর এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের পর যে তিলোত্তমার রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার