Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ফোন না ধরলে কড়া অ্যাকশন! নতুন পুলিশ সুপারের নজিরবিহীন নির্দেশে আমূল বদলাচ্ছে পুরুলিয়া পুলিশ!

ফোন না ধরলে কড়া অ্যাকশন! নতুন পুলিশ সুপারের নজিরবিহীন নির্দেশে আমূল বদলাচ্ছে পুরুলিয়া পুলিশ!
ছবি সংগৃহীত

পুরুলিয়া: গভীর রাতে মাঝরাস্তায় কোনও বড় বিপদে পড়েছেন, কিংবা ঘরের দোরগোড়ায় কোনও জরুরি পরিস্থিতি— কাকে ফোন করবেন বুঝতে পারছেন না? বন্ধু বা আত্মীয়দের ফোন করে সময়মতো সাহায্য মিলবে কিনা, তা নিয়ে যখন চরম অনিশ্চয়তা, তখন সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলো সমাজবন্ধু পুলিশ। 


পুরুলিয়ার নতুন পুলিশ সুপার কুমার সন্নী রাজ-এর এক অভিনব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগে এবার জেলাজুড়ে শুরু হলো জরুরি যোগাযোগ নম্বর সম্বলিত বিশেষ তথ্যপত্র বা লিফলেট বিতরণ। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো, জেলার যে কোনও প্রান্তের মানুষ বিপদে পড়লে যাতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সরাসরি এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশি সহায়তা পেয়ে যান। এই তথ্যপত্রে স্থানীয় থানার ল্যান্ডলাইন নম্বর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির (OC) সরাসরি নিজস্ব সিইউজি (CUG) মোবাইল নম্বর এবং জেলা পুলিশের মেইন কন্ট্রোল রুমের নম্বর স্পষ্ট অক্ষরে ছেপে দেওয়া হয়েছে।


তবে শুধু আমজনতার হাতে পুলিশের নম্বর তুলে দেওয়াই নয়, সেই ফোনে সাধারণ মানুষ সঠিক পরিষেবা পাবেন কিনা, তা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন নতুন পুলিশ সুপার। অতীতে এই জেলায় বহুবার অভিযোগ উঠেছে যে, জরুরি প্রয়োজনে ফোন করা হলেও থানার ওসি বা আইসি-রা তাঁদের সরকারি মোবাইল ফোন রিসিভ করতেন না। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরুলিয়ার দায়িত্ব নিয়েই নতুন পুলিশ সুপার সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, জনগণের প্রত্যেকটি ফোন বাধ্যতামূলকভাবে ধরতে হবে এবং অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ শুনতে হবে। যদি কোনও বিশেষ কারণে ডিউটিতে ব্যস্ত থাকার দরুন তৎক্ষণাৎ ফোন ধরা সম্ভব নাও হয়, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ামাত্রই নিজে থেকে সেই নম্বরে ব্যাক-কল করতে হবে এবং জেনে নিতে হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা। পুলিশ যাতে আমজনতার কাছে কেবল ত্রাস নয়, বরং ভরসার প্রকৃত জায়গা হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন জেলা পুলিশ প্রধান।


নতুন পুলিশ সুপারের এই কড়া ও মানবিক নির্দেশের পর পুরুলিয়ার পুলিশকর্মীরা এখন কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন। জরুরি মোবাইল নম্বর সম্বলিত এই তথ্যপত্রগুলি নিয়ে পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তের হাটে-বাজারে, জনবহুল রাস্তায়, বাসস্ট্যান্ডে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকার ঘরে ঘরে গিয়েও সাধারণ মানুষের হাতে বিলি করছেন। নম্বর বিলি করার পাশাপাশি রীতিমতো বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, কোন নম্বরে ফোন করলে সরাসরি থানার বড়বাবুকে পাওয়া যাবে আর কোথায় ফোন করলে খবর পৌঁছে যাবে খোদ পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সদর কন্ট্রোলরুমে। পুলিশের এই নজিরবিহীন জনসংযোগ ও তৎপরতায় স্বভাবতই খুশি পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষ, যাঁরা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে বিপদে-আপদে এক ফোনেই মিলবে মুশকিল আসান।



বিষয় : WestBengalNews BengalPolitics publicsafety puruliapolice emmergencycontact

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ফোন না ধরলে কড়া অ্যাকশন! নতুন পুলিশ সুপারের নজিরবিহীন নির্দেশে আমূল বদলাচ্ছে পুরুলিয়া পুলিশ!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image
পুরুলিয়া: গভীর রাতে মাঝরাস্তায় কোনও বড় বিপদে পড়েছেন, কিংবা ঘরের দোরগোড়ায় কোনও জরুরি পরিস্থিতি— কাকে ফোন করবেন বুঝতে পারছেন না? বন্ধু বা আত্মীয়দের ফোন করে সময়মতো সাহায্য মিলবে কিনা, তা নিয়ে যখন চরম অনিশ্চয়তা, তখন সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলো সমাজবন্ধু পুলিশ। পুরুলিয়ার নতুন পুলিশ সুপার কুমার সন্নী রাজ-এর এক অভিনব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগে এবার জেলাজুড়ে শুরু হলো জরুরি যোগাযোগ নম্বর সম্বলিত বিশেষ তথ্যপত্র বা লিফলেট বিতরণ। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো, জেলার যে কোনও প্রান্তের মানুষ বিপদে পড়লে যাতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সরাসরি এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশি সহায়তা পেয়ে যান। এই তথ্যপত্রে স্থানীয় থানার ল্যান্ডলাইন নম্বর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির (OC) সরাসরি নিজস্ব সিইউজি (CUG) মোবাইল নম্বর এবং জেলা পুলিশের মেইন কন্ট্রোল রুমের নম্বর স্পষ্ট অক্ষরে ছেপে দেওয়া হয়েছে।তবে শুধু আমজনতার হাতে পুলিশের নম্বর তুলে দেওয়াই নয়, সেই ফোনে সাধারণ মানুষ সঠিক পরিষেবা পাবেন কিনা, তা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন নতুন পুলিশ সুপার। অতীতে এই জেলায় বহুবার অভিযোগ উঠেছে যে, জরুরি প্রয়োজনে ফোন করা হলেও থানার ওসি বা আইসি-রা তাঁদের সরকারি মোবাইল ফোন রিসিভ করতেন না। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরুলিয়ার দায়িত্ব নিয়েই নতুন পুলিশ সুপার সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, জনগণের প্রত্যেকটি ফোন বাধ্যতামূলকভাবে ধরতে হবে এবং অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ শুনতে হবে। যদি কোনও বিশেষ কারণে ডিউটিতে ব্যস্ত থাকার দরুন তৎক্ষণাৎ ফোন ধরা সম্ভব নাও হয়, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ামাত্রই নিজে থেকে সেই নম্বরে ব্যাক-কল করতে হবে এবং জেনে নিতে হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা। পুলিশ যাতে আমজনতার কাছে কেবল ত্রাস নয়, বরং ভরসার প্রকৃত জায়গা হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন জেলা পুলিশ প্রধান।নতুন পুলিশ সুপারের এই কড়া ও মানবিক নির্দেশের পর পুরুলিয়ার পুলিশকর্মীরা এখন কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন। জরুরি মোবাইল নম্বর সম্বলিত এই তথ্যপত্রগুলি নিয়ে পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তের হাটে-বাজারে, জনবহুল রাস্তায়, বাসস্ট্যান্ডে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকার ঘরে ঘরে গিয়েও সাধারণ মানুষের হাতে বিলি করছেন। নম্বর বিলি করার পাশাপাশি রীতিমতো বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, কোন নম্বরে ফোন করলে সরাসরি থানার বড়বাবুকে পাওয়া যাবে আর কোথায় ফোন করলে খবর পৌঁছে যাবে খোদ পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সদর কন্ট্রোলরুমে। পুলিশের এই নজিরবিহীন জনসংযোগ ও তৎপরতায় স্বভাবতই খুশি পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষ, যাঁরা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে বিপদে-আপদে এক ফোনেই মিলবে মুশকিল আসান।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার