হুগলি: বিজয়া দশমীর মণ্ডপে মণ্ডপে যখন সিঁদুর খেলা ও মিষ্টিমুখের আমেজ, ঠিক তখনই হুগলির গঙ্গাপাড়ে নেমে এলো এক অন্ধকার শোকের ছায়া। বিসর্জনের শুভ মুহূর্ত কাটতে না কাটতেই গঙ্গা থেকে দুর্গা প্রতিমার কাঠামো তুলতে গিয়ে অকালমৃত্যু ঘটল এক প্রৌঢ়ের। নিহত ব্যক্তি এলাকায় সক্রিয় রাজনীতির পরিচিত মুখ এবং স্থানীয় বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। নিহত ওই বিজেপি নেতার নাম গৌরী সাহানি (৬১)। বুধবার রাতে ভদ্রেশ্বরের শ্রীমানি ঘাটের কাছে নদী থেকে প্রতিমার কাঠামো তোলার সময় নদীর কাদা ও পলির মরণফাঁদে আটকে তাঁর প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভদ্রেশ্বর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা ছিলেন গৌরী সাহানি। পেশাগত ও ব্যক্তিগত অভ্যাসের বশে প্রতি বছরই বিসর্জনের পর গঙ্গার জল থেকে দেবী প্রতিমার বাঁশ ও কাঠের কাঠামো কুড়িয়ে তা বিক্রি করতেন তিনি। বুধবার দশমীর রাতে শ্রীমানি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের পর্ব মেটার পর, ঘাট থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে গঙ্গার জলে নামেন গৌরীবাবু। কিন্তু সেই সময় গঙ্গায় ভাঁটা চলছিল। জলের নিচে জমা মারাত্মক কাদা ও পলির স্তূপে হঠাৎই আটকে যান ওই বৃদ্ধ। হাজার চেষ্টা করেও পলি থেকে নিজেকে বের করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং জলের তলেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার নজরে আসতেই তারা চিৎকার জুড়ে দেন এবং দ্রুত গঙ্গায় নেমে তাঁকে উদ্ধারের জন্য হাত বাড়ান। বেশ কয়েকজনের তৎপরতায় মুমূর্ষু অবস্থায় গৌরীবাবুকে নদী থেকে তুলে তড়িঘড়ি চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত গৌরী সাহানির দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা অসুস্থতা ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর সতীর্থরা। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছে। হুগলি জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি গোপাল উপাধ্যায় জানান, গৌরী সাহানি ছিলেন দলের অন্যতম একনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের কর্মী। তাঁর এই আকস্মিক ও দুর্ভাগ্যজনক প্রয়াণে পুরো ভদ্রেশ্বর ও জেলার রাজনৈতিক মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন